সাধুসঙ্গ
চিত্রকূট থেকে সেদিন গুপ্তগোদাবরী দর্শন করে অনুসুয়া মায়ের মন্দির যাচ্ছি। পথে বাঁদরের উপদ্রব। বারেবারেই পথ আটকে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেয়। গভীর জঙ্গল পাহাড়ি পথ। সে দৃশ্য ভীষন মজা করেই অনুধাবন করছি। শাল, সেগুন, অর্জুনের সহ কত গাছ। এই তপবনেই একসময় শ্রী রামচন্দ্র বনবাস কালে ১১ বছর কাটিয়েছেন। মাতা অনুসুয়ার সাথে বারেবারে দেখাও করেছিলেন। মা সীতাকে উনি বিশেষ স্নেহ করতেন । রামায়ণের বন পর্বে উল্লেখ আছে।
-হঠাৎ সামনেই দেখা এক সাধু তপস্বীর। পায়ে হেঁটেই চলেছেন। পায়ে জুতাও নেই। হাঁটুর উপরে একটি পাতলা কাপড়। গায়ে কিছু নেই। বাম কাঁধে একটি ছোট্ট ঝোলা। এই ভয়ঙ্কর শীতে খালি গায়ে কি করে থাকেন? মনে প্রশ্ন এলো। ড্রাইভারকে গাড়ি দাঁড় করতে বললাম। ড্রাইভার ব্রেক কষে দাঁড়ালেন সাধুর পাশেই।
সাধুবাবাকে বললাম “বাবা কাঁহা যায়েঙ্গে আপ?”
-উনি বললেন অনুসুয়া মন্দির।
আমরা ওনাকে গাড়িতে উঠতে বললাম। আসলে এত হিংস্র বাঁদর দেখেই ভয় হয়েছিল আমাদের। মন বলছিল যদি একা পেয়ে ওনাকে এরা(বাঁদর) আক্রমন করে?
উনি বললেন পায়ে হেঁটেই উনি ঘুরছেন। দক্ষিণ ভারতের কোন এক গ্রামে ওনার আশ্রম আছে। কিছুটা ট্রেনে কিছুটা হেঁটেই তীর্থ ভ্রমন করছেন । এখন উনি হরিদ্বার, বৃন্দাবন, অযোধ্যা হয়ে চিত্রকূট দর্শন করছেন।
কথায় কথায় ওনাকে বললাম
ইহা পর বহুত বাঁন্দর হ্যায়। আপকো কাটে তো? ইসিলিয়ে আপকো উঠাইয়া।
উনি বললেন “ডরো মত। বান্দর সাধু লোগোকো কুছ নেহি করেগা। বো সমঝতে হ্যায়। “
অনুসুয়া মন্দিরে নেমে ওনাকে প্রণাম করলাম। কিছু প্রনামি দিতে চাইলে উনি নিলেন না।
বললেন “ইসকা জরুরত নেহি। ম্যায় ভিখ নেহি মাঙ্গতে ঔর পয়সা ভি নেহি লেতে বেটা”। আমাদের আর্শীবাদ করলেন।
এরপর উনি স্নান করলেন নদীতে। এত ঠান্ডায় যেখানে আমরা শীতবস্ত্র খোলার কথা ভাবতেই পারছিলাম না-তখন উনি এক লাফে নদীতে। অবাক হয়েছিলাম আমরা।
ফেরার সময় ভাবছিলাম আজকের দিনেও এমন মানুষ, এমন সন্ত আছেন। যাঁরা ভোগবাদেরও অনেক ঊর্ধ্বে। সাধনা, ত্যাগ, সমাজের কল্যাণ, আধ্যাত্মিকতাই যাঁদের চলার পথের পাথেয়।
Comments