কালি পোখড়ির ইতিবৃত্ত



ভারত নেপাল সীমান্তের ছোট্ট জনপদ কালিপোখড়ি। এই ছোট্ট গ্রামটি মানেভঞ্জন থেকে সান্দাকফু যাওয়ার পথে হিমালয়ের ৩১৮৬ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। জনবসতি খুবই কম, খুব বেশি হলে অর্ধশতক বাড়ি আছে এই গ্রামে।

আমরা তুমলিং থেকে সান্দাকফু ট্রেকিংয়ের পথে গিরিবাস অতিক্রম করে কালিপোখড়িতে একরাত্রি ছিলাম। গিরিবাস পেরিয়ে হাঁটছি। ক্লান্ত শরীর। সন্ধ্যার গোঁড়ায় কালিপোখড়ি লেকের কাছে পৌঁছাই।

ঘন কালো জল এই লেকের। যেন মনে হয় কেউ কালো রং গুলে রেখেছে এই লেকের জলে। লেকের চারিদিকে রংবেরং এর পতাকা। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এই লেকটি। হিন্দিতে কালি কথার অর্থ “কালো”,আর “পুকুর” কে নেপালি ভাষায় পোখড়ি বলা হয়।
আমরা এই লেকের ধারে অনেকটা সময় কাটিয়েছিলাম। ভারত-নেপাল সীমান্ত হলেও এখানে পাবেন না কোন নিরাপত্তা কর্মীর আনাগোনা। কোন সীমান্ত সুরক্ষার ব্যবস্থাও নেই। চরম শান্তির পরিবেশ সদা বিরাজিত। পৃথিবীর সব দেশের সীমান্ত যদি এমনই হতো কত ভালোই না হতো?  যুদ্ধং দেহি ভাব এখানে একদমই নেই।

উপাসনার জন্য একটি ছোট বৌদ্ধ মন্দির আছে লেকের ধারে। ভ্রমনার্থীরা এবং স্থানীয় মানুষেরা ধুপ, ধুনা সহযোগে এই লেকের ধারে উপাসনা করেন। “ঘুমন্ত বুদ্ধের” এই দেশে সত্যিই শান্তি বিরাজ করে। প্রবল শীতে চারদিকের পাহাড় যেখানে শ্বেতশুভ্র বরফে আবৃত হয়ে যায় তখনও এই লেকের জল বরফে পরিণত হয় না। এটি এই লেকের মাহাত্ম বা বৈশিষ্ট।

স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস এই লেকে ভয়ানক কালনাগের বাস। গভীর রাতে এই লেকের চারিপাশে অলৌকিক বিভিন্ন ঘটনাও অনেক প্রতীক্ষদর্শী খেয়াল করেছেন । সে যাই হোক এই ছোট্ট লেকটি সত্যই সুন্দর। সান্দাকফু  যাবার পথে এই লেকটি ভ্রমনার্থীদের মন জয় করছে যুগযুগ ধরে।

©প্রাণকৃষ্ণ

Comments

Popular posts from this blog

বর্ধমান জেলার অনেক মানুষের সাথে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ছিল নিবিড় যোগাযোগ

সাগরপাড়ের রানী ভাইজ্যাক

ডোডোর কেরামতি