Posts

অপাত্রে দানখয়রাতি বন্ধ হোক

Image
সত্যিই যার প্রয়োজন ,সরকার তাকে সুযোগ সুবিধা দান করুক। কিন্তু তা না করে ভোটের স্বার্থে সরকার যেভাবে অর্থের নয়ছয় করে তা দেখে গা জ্বালা করাটাই তো স্বাভাবিক।  জানিনা, আমার মত আর কারুর গা জ্বলে কিনা? সকাল থেকেই পাড়ায় পাড়ায় দেখবেন কিছু লোককে দেখি  হাত ভ্যান, মটর ভ্যান নিয়ে চাল, গম, আটা দেবেন  বলে হাঁকতে হাঁকতে ঘুরতে। এরা বিভিন্ন বাড়ি থেকে রেশনের চাল, গম, সংগ্রহ করে। এখন আবার দুয়ারে রেশন।  দেখবেন দুয়ারে রেশন যেখানে দেওয়া হচ্ছে তার 50-100 মিটার দূরেই এরা দাঁড়িয়ে থাকে। আর রেশন উপভোক্তার কাছ থেকে তা কিনে নেয়। কি অদ্ভুত ব্যবস্থা। সরকারি প্রতিনিধিরা জানেন না?  হ্যাঁ তারাও জানেন। এটাই  সিস্টেম।  আসলে সবটাই দুনম্বরী।  সরকার চাল দিচ্ছে বিনা পয়সায়। সেই চাল রেশন কার্ড হোল্ডার বস্তা ভর্তি করে নিচ্ছে। নিজেরা ব্যবহার না করে তা আবার বিক্রি হয়ে যাচ্ছে 15-16 টাকা কেজি দরে। সেই চাল আবার ওই বিক্রেতা রাইস মিল মালিককে আর একটু বেশি দামে বিক্রি করছে। রাইস মিল মালিক আবার সেই চাল সরকারকে বিক্রি করছে। এই ভাবেই চলছে সিস্টেমটা।  পুরো ব্যাপারটা দুনম্বরী...

ছাগলের মা

কান্না কান্না মুখে মেয়েটি আমার কাছে এসে বলল "তুমি আমায় ছাগলের মা"  আর কোনদিন বলো না।  আমি বললাম কাঁদছিস কেন? কি হয়েছে?  মেয়েটি বলল তুমি আমাকে ছাগলের মা বলো বলে, সকলেই আমায় "ছাগলের মা" বলছে। আমার মা ও আমায় এখন ছাগলের মা বলে।  আমি বললাম ছাগলের মা বললে, তোর কষ্ট হয় বুঝি? ঠিক আছে আজ থেকে আমি তোকে 'রানী মা' বলব। তাহলে খুশি তো? -হ্যাঁ , তাই বলবে, তবে ছাগলের মা বলবে না। আচ্ছা ৫ টাকা দেবে? বিস্কুট খাব। আমি পকেট থেকে পাঁচ টাকা দিতেই মেয়েটি এক ছুটে দোকানে গেল হয়ত বিস্কুট বা চকলেট কিনতে।  আমার অফিস পাড়ায় ওর বাড়ি। আমার অফিস প্রাঙ্গনে  প্রতিদিন ও দুটি ছাগল নিয়ে আসে। ওদেরই ছাগল। লেখাপড়ার ফাঁকে ছাগলগুলি ওর বন্ধু। খুব ভালোবাসে ওদের। ওর এই ভালোবাসার কারনে ওদের দুটি ছাগল ছাড়াও অন্যান্য ছাগল ও ওর সাথে সাথে থাকে দেখি। মেয়েটির এক ডাকে ৬-৭ টি ছাগল ছুটে আসে।  দীর্ঘদিন ছাগলের সাথে ওর এই বন্ধুত্ব আমায় মুগ্ধ করেছে। সেই কারণেই মেয়েটিকে আমি 'ছাগলের মা' বলেই ডাকতাম। প্রথম প্রথম ও এই বিষয়টিকে মজা হিসাবেই নিত। তবে অন্যান্যরা এই নামে ডাকা শুরু করতে ও বিষয়টি মজা হিসাবে আর মানতে পারছ...

লকডাউন ও বিদ্যালয়

২০২০ সালের ২৪ সে মার্চ দেশে লকডাউন শুরু হলো। একরকম হঠাৎই লকডাউনের ডাক। করোনা আতঙ্ক তার কয়েকমাস ধরেই মানুষের মনে গেঁথে বসেছে। হঠাৎ লকডাউন ট্রেন, বাস, চলাচল সব বন্ধ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত শ্রমিকরা পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বাড়ি ফিরছেন। পথে না পেয়েছেন খাবার না পেয়েছেন পানীয় জল। সেই মর্মান্তিক দৃশ্য চোখে দেখা যায়নি সেদিন। পা থেকে গলগল করে রক্ত ঝরছে। সহস্রাধিক মানুষ কোভিডে নয়, বরং সেদিনের সরকারের অপরিকল্পিত অমানবিক সিদ্ধান্তের জন্য প্রাণ হারিয়েছিলেন।  অফিস ,আদালত ,স্কুল, কলেজ, লাইব্রেরি, ট্রেন, বাস, বাজার, দোকান সব বন্ধ। নির্দেশ এলো মুখোশ পরে রাস্তায় বেরুতে হবে। সকলের সাথে সকলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আমরা মনে করেছিলাম সেদিন সামাজিক দূরত্ব কেন, বরং বলা হোক দৈহিক দূরত্ব  বজায় হোক। মানুষ স্বাস্থ্য সম্বন্ধে একটু সচেতন হোক। তারপর করোনা তাড়াতে  নির্দেশ এলো ঘন্টা, বাদ্য বাজাও। অমিতাভ বচ্চন বাবুকেও দেখলাম ঘন্টা বাজাতে। আরো অনেকেই সেই বালখিল্য নির্দেশ মেনেছিলেন। আবার আমার মত দেশের বেশিরভাগ মানুষই আবার সে নির্দেশ মানে নি বরং হেসেছিলাম। লজ্জা হয়েছিল আমাদের দেশের প্র...

বর্ধমান জেলার অনেক মানুষের সাথে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ছিল নিবিড় যোগাযোগ

Image
  বিদ্যাসাগর মহাশয়কে নিয়ে কিছু লেখার সুযোগ ও সৌভাগ্য হলে সে সুযোগ ছাড়তে কারই বা মন চায়? বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ঈশ্বরচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে। ১৮২০ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর। তাঁর পিতা  ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মা ভগবতী দেবী ছিলেন সেসময়ের নিরিখে শিক্ষানুরাগী ও বিচক্ষণ ব্যক্তি। ছেলেবেলায় গ্রামের পাঠশালাতেই পড়তেন ঈশ্বরচন্দ্র। পাঠশালার পাঠ শেষ করে আরও শিক্ষালাভের জন্য ঈশ্বরচন্দ্র বীরসিংহ গ্রাম থেকে কলকাতায় পৌঁছান পায়ে হেঁটে, তখন তাঁর বয়স মাত্র আট পেরিয়েছে। তারপর জীবনের বেশিরভাগ সময়ই তাঁর কলকাতাতেই কেটেছে। কারণ বিদ্যাসাগরের পিতা ঠাকুরদার বন্দ্যোপাধ্যায় চাকুরিসূত্রে কলকাতাতেই থাকতেন। তাই তিনি চেয়েছিলেন পুত্র ঈশ্বরও কলকাতায় থেকেই লেখাপড়া করুক। মেধাবী ছাত্র বিদ্যাসাগরেরও একই ইচ্ছা । ১৮৪১ সালে ঈশ্বরচন্দ্র কলকাতার সংস্কৃত কলেজ থেকে খুবই কৃতিত্বের সঙ্গে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি নিয়ে তিনি পাশ করেন এবং তখন থেকে তিনি হয়ে ওঠেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।  শিক্ষান্তে তিনিই সর্বপ্রথম ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের হেড পণ্ডিত পদে নিয়োজিত হন।...

লক্ষী ভান্ডার

গতকাল একটি বাড়ির সামনে দিয়ে যাবার সময় কানে এলো তুমুল ঝগড়ার আওয়াজ। আমি থমকে দাঁড়ালাম। এই বাড়িটিতে অতীতে কোনদিন এমন ঝগড়া ঝাঁটি হয়েছে আমি শুনিনি। বাড়ির লোকজন সব আমার পরিচিত। বেশ ভদ্র সভ্য পরিবার।  বাড়িটির গৃহ কর্তা ভালো ব্যবসাদার। সমাজে নাম ডাক আছে। এক কথায় প্রায় সকলেই ওনাকে চেনেন।  আমি ঝগড়াঝাঁটি থামানোর জন্য মনস্থির করলাম বাড়িটিতে ঢুকি। দরজায় কড়া নাড়তেই গৃহ কর্তা ছুটে এসে দরজা খুললেন।  আমি প্রবেশ করলাম বাড়িটির অন্দরমহলে। ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে ওনাদের দুজনকেই শান্ত হতে অনুরোধ করলাম। বৌদিকে বললাম- এক গ্লাস জল দিন বৌদি।  এরপর বউদি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে  জল আনতে রান্না ঘরে ঢুকলেন।  এরপর আমি গৃহকর্তার দিকে নজর দিতেই দেখি ওনার সারা গা ঘামে ভিজে গেছে। লুঙ্গীটি ভুঁড়ি থেকে এতটাই নেমে গেছে যে আর একটু হলেই খুলে যাবে। এক হাতে লুঙ্গির গিঁট ধরে উনি দাঁড়িয়ে।  ----------------------------          ----------------------- বৌদি আমায়  জল দিতেই এক চুমক জলে  খেয়েই আমি প্রশ্ন করলাম কি হয়েছে বৌদি? আপনাদের পরিবার ভদ্র সভ্য। এ পাড়ায়  সকলেই আপনা...

স্বর্গদ্বারের কান্না

Image
স্বর্গদ্বারের কান্না -প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র শৈশব থেকে শুরু করে আজ অবধি উড়িষ্যার এই সমুদ্র তটের  পুরী শহরে অনেকবারই এসেছি। ভ্রমণের ইচ্ছা চিন্তার জগতে ছাপ ফেললেই সব বাঙালিরই মানস নয়নে  যে দুটি স্থানের ছবি ফুটে ওঠে , তা হলো পুরী ও দার্জিলিং। ভ্রমণ পিপাসু বাঙালি মাত্রেই কখনো না কখনো কোন না কোন সময়ে এই দুটি স্থানে একবার ও অন্তত এসেছেনই। আমিও এ জীবনে এখনো পর্যন্ত নয় নয় করে ছয়-সাত বার পুরী এলাম। তবে এবারের পুরী ভ্রমণ আমার একদমই আনন্দদায়ক হয়নি বরং বলতেই হয়, বেশ দুঃখ নিয়েই আমায় ফিরতে হলো এবার ।  পুরীতে এসে টের পেলাম স্বর্গদ্বারের এক করুন বিদারক কান্না। এ কান্না ছিল শ্রমিকের, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার ও ভিক্ষুকদের। আমি ভারাক্রান্ত হলাম তাঁদের কান্নার ধ্বনি শুনে।           পুরী বাস স্ট্যান্ড, এখানেই রথযাত্রা হয়।  কোভিড ভাইরাসের আতঙ্ক আর ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির কারণে গত বছর থেকেই সমগ্র দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করেছে আমাদের দেশের সরকার। এই লকডাউনের কারণে দেশের সর্বস্তরের মানুষ যে বিপদে পড়েছেন তা সকলেই বুঝছি। অর্থনৈতিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষত...

তুমি কি বিক্রি হয়েছ?

শিল্পী তুমি কোথায় কোথায় তুমি? তুমি কি ভুলে গেছ তোমার কাজ সম্পর্কে? কই আর তো তোমার কন্ঠে প্রতিবাদের কথা উঠে আসেনা? তোমার কলমে নিপীড়িত মানুষের আর্তনাদের কাহিনী কোথায়? তোমা...