Posts

Showing posts from 2021

বর্ধমান জেলার অনেক মানুষের সাথে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ছিল নিবিড় যোগাযোগ

Image
  বিদ্যাসাগর মহাশয়কে নিয়ে কিছু লেখার সুযোগ ও সৌভাগ্য হলে সে সুযোগ ছাড়তে কারই বা মন চায়? বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ঈশ্বরচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে। ১৮২০ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর। তাঁর পিতা  ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মা ভগবতী দেবী ছিলেন সেসময়ের নিরিখে শিক্ষানুরাগী ও বিচক্ষণ ব্যক্তি। ছেলেবেলায় গ্রামের পাঠশালাতেই পড়তেন ঈশ্বরচন্দ্র। পাঠশালার পাঠ শেষ করে আরও শিক্ষালাভের জন্য ঈশ্বরচন্দ্র বীরসিংহ গ্রাম থেকে কলকাতায় পৌঁছান পায়ে হেঁটে, তখন তাঁর বয়স মাত্র আট পেরিয়েছে। তারপর জীবনের বেশিরভাগ সময়ই তাঁর কলকাতাতেই কেটেছে। কারণ বিদ্যাসাগরের পিতা ঠাকুরদার বন্দ্যোপাধ্যায় চাকুরিসূত্রে কলকাতাতেই থাকতেন। তাই তিনি চেয়েছিলেন পুত্র ঈশ্বরও কলকাতায় থেকেই লেখাপড়া করুক। মেধাবী ছাত্র বিদ্যাসাগরেরও একই ইচ্ছা । ১৮৪১ সালে ঈশ্বরচন্দ্র কলকাতার সংস্কৃত কলেজ থেকে খুবই কৃতিত্বের সঙ্গে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি নিয়ে তিনি পাশ করেন এবং তখন থেকে তিনি হয়ে ওঠেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।  শিক্ষান্তে তিনিই সর্বপ্রথম ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের হেড পণ্ডিত পদে নিয়োজিত হন।...

লক্ষী ভান্ডার

গতকাল একটি বাড়ির সামনে দিয়ে যাবার সময় কানে এলো তুমুল ঝগড়ার আওয়াজ। আমি থমকে দাঁড়ালাম। এই বাড়িটিতে অতীতে কোনদিন এমন ঝগড়া ঝাঁটি হয়েছে আমি শুনিনি। বাড়ির লোকজন সব আমার পরিচিত। বেশ ভদ্র সভ্য পরিবার।  বাড়িটির গৃহ কর্তা ভালো ব্যবসাদার। সমাজে নাম ডাক আছে। এক কথায় প্রায় সকলেই ওনাকে চেনেন।  আমি ঝগড়াঝাঁটি থামানোর জন্য মনস্থির করলাম বাড়িটিতে ঢুকি। দরজায় কড়া নাড়তেই গৃহ কর্তা ছুটে এসে দরজা খুললেন।  আমি প্রবেশ করলাম বাড়িটির অন্দরমহলে। ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে ওনাদের দুজনকেই শান্ত হতে অনুরোধ করলাম। বৌদিকে বললাম- এক গ্লাস জল দিন বৌদি।  এরপর বউদি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে  জল আনতে রান্না ঘরে ঢুকলেন।  এরপর আমি গৃহকর্তার দিকে নজর দিতেই দেখি ওনার সারা গা ঘামে ভিজে গেছে। লুঙ্গীটি ভুঁড়ি থেকে এতটাই নেমে গেছে যে আর একটু হলেই খুলে যাবে। এক হাতে লুঙ্গির গিঁট ধরে উনি দাঁড়িয়ে।  ----------------------------          ----------------------- বৌদি আমায়  জল দিতেই এক চুমক জলে  খেয়েই আমি প্রশ্ন করলাম কি হয়েছে বৌদি? আপনাদের পরিবার ভদ্র সভ্য। এ পাড়ায়  সকলেই আপনা...

স্বর্গদ্বারের কান্না

Image
স্বর্গদ্বারের কান্না -প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র শৈশব থেকে শুরু করে আজ অবধি উড়িষ্যার এই সমুদ্র তটের  পুরী শহরে অনেকবারই এসেছি। ভ্রমণের ইচ্ছা চিন্তার জগতে ছাপ ফেললেই সব বাঙালিরই মানস নয়নে  যে দুটি স্থানের ছবি ফুটে ওঠে , তা হলো পুরী ও দার্জিলিং। ভ্রমণ পিপাসু বাঙালি মাত্রেই কখনো না কখনো কোন না কোন সময়ে এই দুটি স্থানে একবার ও অন্তত এসেছেনই। আমিও এ জীবনে এখনো পর্যন্ত নয় নয় করে ছয়-সাত বার পুরী এলাম। তবে এবারের পুরী ভ্রমণ আমার একদমই আনন্দদায়ক হয়নি বরং বলতেই হয়, বেশ দুঃখ নিয়েই আমায় ফিরতে হলো এবার ।  পুরীতে এসে টের পেলাম স্বর্গদ্বারের এক করুন বিদারক কান্না। এ কান্না ছিল শ্রমিকের, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার ও ভিক্ষুকদের। আমি ভারাক্রান্ত হলাম তাঁদের কান্নার ধ্বনি শুনে।           পুরী বাস স্ট্যান্ড, এখানেই রথযাত্রা হয়।  কোভিড ভাইরাসের আতঙ্ক আর ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির কারণে গত বছর থেকেই সমগ্র দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করেছে আমাদের দেশের সরকার। এই লকডাউনের কারণে দেশের সর্বস্তরের মানুষ যে বিপদে পড়েছেন তা সকলেই বুঝছি। অর্থনৈতিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষত...

তুমি কি বিক্রি হয়েছ?

শিল্পী তুমি কোথায় কোথায় তুমি? তুমি কি ভুলে গেছ তোমার কাজ সম্পর্কে? কই আর তো তোমার কন্ঠে প্রতিবাদের কথা উঠে আসেনা? তোমার কলমে নিপীড়িত মানুষের আর্তনাদের কাহিনী কোথায়? তোমা...

বিশ্ব উষ্ণায়ন , পরিবেশ দূষণই দায়ী করোনা মহামারীর জন্য, এই ভাইরাস বহু বর্ষ আগেও ছিল

Image
আরো আরো গাছ কাটা হোক। নদীতে যেখানে সেখানে বাঁধ দিয়ে আরো আরো জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলে নদীর গতিকে আটকে দেওয়া হোক। হোক পুকুর, নদী বুজিয়ে অট্টালিকা তৈরি।  তেজস্ক্রিয় দ্রব্য উৎপাদনের বৃদ্ধি এমন করা হোক যাতে পৃথিবীর আকাশে ধুঁয়ায় ভরিয়ে তোলা যায়।  হোক প্রতিযোগিতা, সারা পৃথিবীকে কংক্রিটের  স্বর্গরাজ্য বানানোর।  দূষণ দূষণ দূষণ দূষণ - ভাইরাসের শক্তিবৃদ্ধির মূল কারণ দূষণ। সারা বিশ্বকে রাষ্ট্রনেতাদের কুচক্রান্ত দূষিত করেছে। আজকের পৃথিবীতে পরিবেশ সচেতন দেশের সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকটি।  মারন ভাইরাস করোনা আগেও ছিল।  দূষণের মাত্রা বৃদ্ধির কারণেই আজ এই ভাইরাস অধিক শক্তি সঞ্চয় করে মানুষ মারার খেলায় অবতীর্ণ।  এসব  কথা  এতদিন অনেকেই বোঝেন নি।  পরিবেশবিদরা বারবার আমাদের সচেতন করলেও রাষ্ট্রনেতা থেকে শুরু করে সাধারণ আম- আদমি কেউই কানে নেননি।  কিন্তু আজ অনেকেই বুঝছেন দূষণই এইসব ভাইরাসের শক্তি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। প্রকৃতি দূষণ মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে পৌছানোই করোনার মত মারন ভাইরাসের শক্তি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।  পরিবেশ বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে পরিব...

উড়তে উড়তে উড়োজাহাজে

Image
উড়তে উড়তে উড়োজাহাজে প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র উড়োজাহাজে চড়ে  আকাশে উড়ব এ আমি  স্বপ্নেও কোনদিন ভাবিনি। কারন উড়োজাহাজে চড়ে ভ্রমন আমার বিলাসিতা মনে হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমনের উদ্দেশ্যে যেখানেই গেছি ট্রেন ,বাস এই দুই মাধ্যমকেই ব্যবহার করেছি।  আমার পূর্বপুরুষরাও আজ পর্যন্ত কোনদিন উড়োজাহাজে চাপেননি। কারন তাঁদেরও উড়োজাহাজে চড়ার প্রয়োজন পড়েনি। সত্যি কথা বলতে কি ট্রেনে বাসে বা ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়া করে ভ্রমনেই আমি চিরকাল অভ্যস্ত। ট্রেনে বা বাসে চেপে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটানো ও ভ্রমনের অঙ্গ, আলাদা মজা।  শৈশবে গ্রামে থাকতাম। মনে পরে শৈশবে ডাবগাছের বা তালগাছের পাতার উপর বসে আমরা গাড়ি গাড়ি খেলতাম। সে গাড়িতে কখনো আমি যাত্রী হতাম তো আমারই কোন বন্ধু গাড়ির চালক হতো। এক হাতে করে সেই গাছের পাতাটিকে ধরে মোরামের রাস্তা দিয়ে উর্ধশ্বাসে  ছুটতে হতো। যে বসে থাকতো তার আরাম হতো ঠিকই, কিন্তু  যে পাতাটিকে ধরে ছুটত তার প্যান্ট হলুদ হতো। আমি বরাবরই রোগাসোগা ছিলাম। তাই আমি যখন টানতাম তখন এক হাতে প্যান্ট ধরে অন্য হাত দিয়ে গাছের ডালটিকে ধরে ছুটতাম। কারন অনেকবার এমন হয়েছে কিছুটা দৌড়া...

অন্ধকার সময়

অন্ধকার সময় প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র ঘুটঘুটে অন্ধকার একফোঁটা আলো নেই নেই বাতাসও এযেন ভয়ঙ্কর বিপদের পূর্বাভাস। মানুষগুলো কেউ মন্দিরে মাথা ঠুকতে ছুঁটছে কেউবা মসজিদে, চার্চে বা গির্জায়- একবার বেঁচে যাবার চেষ্টা। কেউ ভাবছে না, বিচার করছে না যুক্তি, বিজ্ঞান । ভাবছে না,সময়ের নিয়মেই অন্ধকার একদিন কেটে যাবে আবার আলোময় হবে । ওরা ছুটছে  কারন যদি হয় ভালো, ওরা বলবে তখন দেখেছ - আমরাই ঠিক ছিলাম বদলে দিয়েছি , হারিয়ে দিয়েছি অন্ধকার দস্যুটাকে।