Posts

Showing posts from February, 2022

অপাত্রে দানখয়রাতি বন্ধ হোক

Image
সত্যিই যার প্রয়োজন ,সরকার তাকে সুযোগ সুবিধা দান করুক। কিন্তু তা না করে ভোটের স্বার্থে সরকার যেভাবে অর্থের নয়ছয় করে তা দেখে গা জ্বালা করাটাই তো স্বাভাবিক।  জানিনা, আমার মত আর কারুর গা জ্বলে কিনা? সকাল থেকেই পাড়ায় পাড়ায় দেখবেন কিছু লোককে দেখি  হাত ভ্যান, মটর ভ্যান নিয়ে চাল, গম, আটা দেবেন  বলে হাঁকতে হাঁকতে ঘুরতে। এরা বিভিন্ন বাড়ি থেকে রেশনের চাল, গম, সংগ্রহ করে। এখন আবার দুয়ারে রেশন।  দেখবেন দুয়ারে রেশন যেখানে দেওয়া হচ্ছে তার 50-100 মিটার দূরেই এরা দাঁড়িয়ে থাকে। আর রেশন উপভোক্তার কাছ থেকে তা কিনে নেয়। কি অদ্ভুত ব্যবস্থা। সরকারি প্রতিনিধিরা জানেন না?  হ্যাঁ তারাও জানেন। এটাই  সিস্টেম।  আসলে সবটাই দুনম্বরী।  সরকার চাল দিচ্ছে বিনা পয়সায়। সেই চাল রেশন কার্ড হোল্ডার বস্তা ভর্তি করে নিচ্ছে। নিজেরা ব্যবহার না করে তা আবার বিক্রি হয়ে যাচ্ছে 15-16 টাকা কেজি দরে। সেই চাল আবার ওই বিক্রেতা রাইস মিল মালিককে আর একটু বেশি দামে বিক্রি করছে। রাইস মিল মালিক আবার সেই চাল সরকারকে বিক্রি করছে। এই ভাবেই চলছে সিস্টেমটা।  পুরো ব্যাপারটা দুনম্বরী...

ছাগলের মা

কান্না কান্না মুখে মেয়েটি আমার কাছে এসে বলল "তুমি আমায় ছাগলের মা"  আর কোনদিন বলো না।  আমি বললাম কাঁদছিস কেন? কি হয়েছে?  মেয়েটি বলল তুমি আমাকে ছাগলের মা বলো বলে, সকলেই আমায় "ছাগলের মা" বলছে। আমার মা ও আমায় এখন ছাগলের মা বলে।  আমি বললাম ছাগলের মা বললে, তোর কষ্ট হয় বুঝি? ঠিক আছে আজ থেকে আমি তোকে 'রানী মা' বলব। তাহলে খুশি তো? -হ্যাঁ , তাই বলবে, তবে ছাগলের মা বলবে না। আচ্ছা ৫ টাকা দেবে? বিস্কুট খাব। আমি পকেট থেকে পাঁচ টাকা দিতেই মেয়েটি এক ছুটে দোকানে গেল হয়ত বিস্কুট বা চকলেট কিনতে।  আমার অফিস পাড়ায় ওর বাড়ি। আমার অফিস প্রাঙ্গনে  প্রতিদিন ও দুটি ছাগল নিয়ে আসে। ওদেরই ছাগল। লেখাপড়ার ফাঁকে ছাগলগুলি ওর বন্ধু। খুব ভালোবাসে ওদের। ওর এই ভালোবাসার কারনে ওদের দুটি ছাগল ছাড়াও অন্যান্য ছাগল ও ওর সাথে সাথে থাকে দেখি। মেয়েটির এক ডাকে ৬-৭ টি ছাগল ছুটে আসে।  দীর্ঘদিন ছাগলের সাথে ওর এই বন্ধুত্ব আমায় মুগ্ধ করেছে। সেই কারণেই মেয়েটিকে আমি 'ছাগলের মা' বলেই ডাকতাম। প্রথম প্রথম ও এই বিষয়টিকে মজা হিসাবেই নিত। তবে অন্যান্যরা এই নামে ডাকা শুরু করতে ও বিষয়টি মজা হিসাবে আর মানতে পারছ...

লকডাউন ও বিদ্যালয়

২০২০ সালের ২৪ সে মার্চ দেশে লকডাউন শুরু হলো। একরকম হঠাৎই লকডাউনের ডাক। করোনা আতঙ্ক তার কয়েকমাস ধরেই মানুষের মনে গেঁথে বসেছে। হঠাৎ লকডাউন ট্রেন, বাস, চলাচল সব বন্ধ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত শ্রমিকরা পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বাড়ি ফিরছেন। পথে না পেয়েছেন খাবার না পেয়েছেন পানীয় জল। সেই মর্মান্তিক দৃশ্য চোখে দেখা যায়নি সেদিন। পা থেকে গলগল করে রক্ত ঝরছে। সহস্রাধিক মানুষ কোভিডে নয়, বরং সেদিনের সরকারের অপরিকল্পিত অমানবিক সিদ্ধান্তের জন্য প্রাণ হারিয়েছিলেন।  অফিস ,আদালত ,স্কুল, কলেজ, লাইব্রেরি, ট্রেন, বাস, বাজার, দোকান সব বন্ধ। নির্দেশ এলো মুখোশ পরে রাস্তায় বেরুতে হবে। সকলের সাথে সকলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আমরা মনে করেছিলাম সেদিন সামাজিক দূরত্ব কেন, বরং বলা হোক দৈহিক দূরত্ব  বজায় হোক। মানুষ স্বাস্থ্য সম্বন্ধে একটু সচেতন হোক। তারপর করোনা তাড়াতে  নির্দেশ এলো ঘন্টা, বাদ্য বাজাও। অমিতাভ বচ্চন বাবুকেও দেখলাম ঘন্টা বাজাতে। আরো অনেকেই সেই বালখিল্য নির্দেশ মেনেছিলেন। আবার আমার মত দেশের বেশিরভাগ মানুষই আবার সে নির্দেশ মানে নি বরং হেসেছিলাম। লজ্জা হয়েছিল আমাদের দেশের প্র...