ডোডোর কেরামতি

গতরাতের ঘটনা। সারাদিনের পরিশ্রমে তখন দুই চোখ আমার নিদ্রাচ্ছন্ন। বিছানায় সবে শরীরটাকে এলিয়ে দিয়েছি। কন্যা সমতা তখনও টিভির পর্দায় কার্টুনে মত্ত। বাড়ির অন্যান্যরা তখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঘুমের রাজ্যের বাসিন্দা হবার। এদিকে  খন্ডযুদ্ধ শুরু। আমাদের বাড়ির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ডোডোর সাথে পাড়ার এক বিড়ালের।

প্রথমে হতচকিত হয়ে পড়েছিলাম। ডোডো বিড়ালটিকে একবার সিঁড়ি দিয়ে তাড়া করে নিচে নামায় তো একবার দ্বিতলে। লন্ডভন্ড অবস্থা। সে লড়াইয়ের দৃশ্য যে কোন হলিউডের ফ্লিমকেও হার মানাবে।

আসলে ডোডোর দীর্ঘদিনের রাগ বিড়ালটার উপর। কারন ডোডো যখন বাঁধা থাকে তখন বিড়ালটা ওকে নিয়ে বড্ড মসকরা করে। ডোডো চিৎকার করে, লাফায় তো বিড়ালটা পাঁচিল বসে মিউমিউ করে।

বিড়াল যেন বলতে চায় “দেখ আমি কেমন মুক্ত ,আর তুই বদ্ধ। গলায় তোর বেরি, আমার গলা মুক্ত।”

এরপর যা হলো -বিড়ালটা আশ্রয় নেয় আমার শয়ন কক্ষের আলমারির পিছনে। ডোডো ওকে ধরার সব পরিকল্পনা করে ততক্ষনে ব্যর্থ।

আমিও শত চেষ্টা করেও বিড়ালকে আলমারির পিছন থেকে বাইরে আনতে ব্যর্থ।

এরই মধ্যে আমি মশারি খাটিয়ে শুয়েছি। বিড়াল একবার ঝাঁপ দিল ঠিক আমার মাথার উপর দিয়ে। ঠোকা লাগল ওর নরম শরীরের সাথে আমার মাথায়।

কি করি এখন!

একবার ভাবলাম টেবিলের তলায় যাঁরা লুকায় তাঁদের অবস্থার কথা। একবার ভাবলাম পাড়ার লোকজনদের কথা। ডাকব নাকি কাউকে?

মন বলল -না থাক। রাত হয়েছে। কাউকে বিব্রত করে লাভ নেই।বরং ডোডো বাইরে বারান্দায় থাকুক। আর বিড়াল থাকুক আমার ঘরে। ভয় কাটলে ঠিকই ও (বিড়াল) বেরিয়ে যাবে।

এইভাবেই বিনিদ্র রজনী যাপন।সারারাত ঘুম আর আসে না। ভোরবেলায় ডোডো ঘুমাচ্ছে । সে ও ক্লান্ত। ওর প্রতি বিড়ালটির প্রাত্যহিক তাচ্ছিল্যের প্রতিশোধ নিতে না পেরে ডোডোর চোখেমুখে  তখন লজ্জার ছাপ।

একমাত্র আমিই ঘুমালাম না। ঘুম এলো না।

এরই মধ্যে দেখি ভোরবেলায় গুটিগুটি পায়ে বিড়াল বেরিয়ে গেল।

তবে এটা বুঝলাম- এ পথ আর বিড়ালটি হয়ত  কখনো কোনদিন আর মারাবে না।

Comments

Popular posts from this blog

বর্ধমান জেলার অনেক মানুষের সাথে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ছিল নিবিড় যোগাযোগ

সাগরপাড়ের রানী ভাইজ্যাক