ট্রেকার্সদের জন্য
ট্রেকিং আরামদায়ক ভ্রমন নয় বা সুখী ভ্রমনার্থীদের জন্য নয়। ট্রেকিং করতে মানসিক ও দৈহিক সক্ষমতা জরুরি। সাধারণ ভ্রমনার্থী যেখানে ভ্রমন শেষ করেন ,ট্রেকিং সেখান থেকেই শুরু হয়। বহু বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হয় ট্রেকারদের।
সুতরাং বলা যেতে পারে ট্রেকিং একটা অন্য ধরনের ভ্রমন। এ অভিজ্ঞতা যাঁদের নেই তাঁদের জন্য বলি টিমের অভিজ্ঞ ব্যক্তিই আপনার টিম পরিচালনা করবেন। যেমন সুশৃঙ্খল হয়ে ফৌজিরা ব্যারাকে বা যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হন একজন কমান্ডারের তত্বাবধানে ঠিক তেমনি। কখনো হতে পারে কমান্ডার সিদ্ধান্ত ভুল নিচ্ছেন, তবুও সেই সিদ্ধান্ত সকলকে মানতে হবে নির্দ্বিধায়। যদিও সিদ্ধান্ত নেবার আগে একটু আলোচনা তাঁর ও করা উচিত।
ট্রেকিং এর সময় সাথে থাকবে একটি লাঠি, হালকা রুকস্যাক, জলের বোতল ও হালকা শুকনো খাবার। সুতরাং বুঝতেই পারছেন খাদ্য রসিক ব্যক্তিদের জন্য ট্রেকিং নয়।
পেট খালি রেখে ট্রেকিং করতে হয়। এতে শরীর হালকা থাকে। বেশি খেলে সাপের মত শিত ঘুমের ইচ্ছা আসে। আর বাঙালিদের ক্ষেত্রে তো সেই ইচ্ছা থাকে প্রবল। টিমের কোন একজন ব্যক্তি যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে সমগ্র টিম তাঁর ফল ভোগ করে। মানে লক্ষ্য থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। ঠিক এই কারনেই নেতৃত্ব বাছাই অত্যন্ত জরুরি। নেতৃত্বের কথা শুনে পথ হাঁটাও জরুরি।
ট্রেকিং রুট বিপদজনক হয়। ঝুঁকিপূর্ণ পথে যেমন সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত ততোধিক বেশি সচেতন হওয়া জরুরি প্রত্যেকের। কারন সব সময় ভাববেন আপনার জন্য আপনার পরিবার অপেক্ষা করছে। আপনার বাড়ি ফেরার দিন গুনছে তাঁরা।
ট্রেকিং এর সময় অবশ্যই কাছে পরিচয় পত্র ও পাসপোর্ট ছবি (২-৩ কপি) রাখবেন। এগুলি বিপদে আপনার কাজে লাগবে। তাছাড়া বন দপ্তরের অনুমতি সংগ্রহের জন্য কাজে লাগে।
ট্রেকিং শুধু পার্বত্য অঞ্চলেই হয় তা নয়। ইদানিং কোস্টাল ট্রেকিং ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সমুদ্রের তীর ধরে হেঁটে একজায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া।
ট্রেকিং এর সময় ব্যাগে এক আধটা ধারালো ছুরি , টর্চ সঙ্গে রাখলে উপকারে লাগে। এছাড়াও দড়ি, ছোট গাইতি ও রাখতে হয় অনেক সময়।নিত্যপ্রয়োজনীয় ঔষুধের সাথে ডায়রিয়া, হজমের জন্য,জ্বর-সর্দির জন্য, শ্বাসকষ্টের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ, ব্যান্ডেজ ইত্যাদি ঔষুধগুলি রাখা জরুরি।
Comments