Posts

প্রতিবাদিনী //প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র

Image
                        প্রতিবাদিনী                       প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র  প্রথম অধ্যায় সেইদিন বৃহস্পতিবার। সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। একদিকে লকডাউনের কারনে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ। আগামী বছরই আমার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। আমি পারুল। আমার মন আজ একদম ঠিক নেই। এইভাবে দীর্ঘদিন টিউশনি, স্কুল বন্ধ থাকলে কিভাবে কি হবে? কারই বা মন ঠিক থাকে? তাছাড়া কতদিন হলো বিজয়ের ফুচকার দোকানেও যেতে পারিনি। তবে ফোন করে বন্ধুর থেকে শুনেছি লকডাউনের কারণে বিজয় দাও দোকান খুলছে না। এরই মধ্যে মা ডাক দিল - পারুল আয় মা একটু আলতা পরিয়ে দিই, আজ গুরুবার। আমি রেগে গিয়ে বললাম ,মা জানোই তো আমি আলতা পরতে পছন্দ করি না। তাছাড়া আলতা পড়লে আমার পা চুলকায়, এলার্জি হয়। মা বললেন , সে কি রে। তুই বামুনের ঘরের মেয়ে। আলতা পরবি না বললে হয়? লোকে কি বলবে? তাছাড়া আগামী বছরই আমরা তোর বিয়ে দেব। একপ্রকার পাকা কথা প্রায় হয়েই রয়েছে। ছেলেটাও ভালো শুনেছি। ---- বিয়ে আমি করব না মা এখনই। আমি পড়াশুনা করব। দীপিকাদির মত চা...

অনুশোচনা

Image
প্রকৃতি, কেন তুমি এত নিষ্ঠুর হয়ে উঠছ?  নিজের সাজানো বাগানকে কেন করছ তছনছ।  তোমার গাছপালা, পশু পাখি, মানুষ তাদের বাসস্থান সবই তো একান্তই তোমার।  তবে কেন তুমি বারেবারে দেখাও তোমার এই রুদ্ররূপ ? তুমি তো জানো ,একটা গাছ বড় হতে কত সময় লাগে?  একটা ঘর তৈরি করতে কত পরিশ্রম করতে হয় পশু পাখি বা  মানুষের। কেন তুমি নিজের সাজানো  সংসার  নিজেই ভাঙছ? ও হাঁ , এটা সত্য আমরা মানুষ হুশ হারিয়ে- তোমার উপর করেছি অনেক অত্যাচার, আমরাও করেছি বৃক্ষচ্ছেদন, আমরা করেছি সমুদ্র দূষণ, পাহাড়কে করেছি জঞ্জালের স্তুপে পরিণত, পরিবেশ দূষণ। তা বলে, তুমি নেবে এত বড় প্রতিশোধ? সন্তান ভুল করলে মা তো  ক্ষমা করে তুমি কি পারোনা ক্ষমা করতে? কি বলছ , তুমি অনেকবার ক্ষমা করেছ। আর সহ্য করতে পারছ না?  ও হাঁ, তা ঠিক। তুমিও তো অনেক দিন ধরেই বারেবারে ক্ষমা করেছ।  তবুও আমরা বুঝিনি।  প্লিজ এবার একটু শান্ত হও,  একটু শান্তি , একটু ভয় মুক্ত হতে চাই এবার না হয় আমরা শুধরে নেব আমাদের ভুলগুলি।  প্লিজ প্লিজ....। 24 শে মে,2020

মন আকাশে কালো মেঘ

জানিনা তোর কি হয়েছে, তবে কিছু একটা হয়েইছে। জানি না তুই কেন আনমনা। তবে যাই হোক তুই আমার শেয়ার করতে পারিস।  ---মনের আকাশে কালো মেঘ। গুমট হয়ে আসছে পৃথিবীটা। ঝড় , প্রবল বৃষ্টি, ক্ষরা দেখেছে পৃথিবী কিন্তু এ মেঘ এ অন্ধকার যেন কেমন একটা । এ মেঘে বিষাদের সুর বাজে। এ মেঘ ভেঙে খান খান করেছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের সঙ্ঘবদ্ধতার সুদীর্ঘ ইতিহাসকে। এ মেঘ তাদের একা থাকতে বলে। এ মেঘ বলে দূরত্ব বজায় রাখতে, এ মেঘ বলে জীবনযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করতে। একটা দম বন্ধ করা পরিস্থিতি তৈরি করেছে রিয়া।  যে মানুষটা তিল তিল করে এই পৃথিবীর জন্য জীবনপাত করে চলে গেল, এ মেঘ তাঁর অন্তিম যাত্রায় যেতে বাধা দেয়। কি করে মনকে নিয়ন্ত্রণ করব বল। আমার মুখের বলিরেখাগুলো এই কদিনে কেমন যেন মিলিয়ে গেছে। আমি ভেবে পাই না কি করে আবার স্বাভাবিক ছন্দে পৃথিবী সেজে উঠবে।  পৃথিবীর প্রিয় সন্তান কৃষক আর মাঠে যায় না। রাখাল বাঁশি বাজিয়ে গ্রামের আলপথে গরু নিয়ে যায় না। কলকারখানাগুলো থেকে আর সাইরেন বাজে না। শ্রমিক ক্ষীদের যন্ত্রনায় ডুকরে কেঁদে ওঠে। ছাত্ররা স্কুলে যায় না। জানিস আজই রিম্পার স্কুলের এক দিদিমণি ফোন করেছিলেন।  -উনি ব...

চাঁদের বুড়ি

নিঝুম রাতি একাকি শুয়ে আছি জানালা দিয়ে দেখি চাঁদ চায় পিটিপিটি। চাঁদের বুড়িকে দেখি সেও আছে একাকি। বুড়ি বলে, কেমন আছিস? আমি বলি ভালো নেই বুড়ি এখানে  যে লকডাউন। বুড়ি বলে তাতে কি আমার এখানে তো- প্রতিদিনই লকডাউন। সময়কে মেনে নে ভাই এছাড়া যে উপায় কিছুই নাই। #প্রাণকৃষ্ণ

মুসৌরির পথ যেন ক্যানভাসের ছবি

Image
                    হর কি পৌরি, হরিদ্বার হর- কি পাউরি হরিদ্বারের প্রধান আকর্ষণ।  আসলে এই ঘাটে গঙ্গা আরতি দেখার মত। সকাল ও সন্ধ্যায় দিনে দুবার এই পবিত্র আরতি অনুষ্ঠিত হয়। তবে সন্ধ্যাতেই  এই আরতি দেখতে বেশি ভালো লাগে । তাই জনসমাগমও হয় বেশি। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এই আরতি দেখার জন্য উপস্থিত হন পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে। ভারতীয় হিন্দু ধর্মের অন্যতম প্রাচীন এই শহর যুগ যুগ ধরে ধর্মপ্রাণ মানুষদের টেনে আনে, আপন করে নেয়। অন্য ধর্মের মানুষদের ও হরিদ্বার আপন করে নিয়েছে। কারন এই শহরকে ছুঁয়েই পৌঁছাতে হয় শিখদের পবিত্র ধর্মস্থান হেমকুন্ড সাহিব,মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান পিরণ কারিয়ার শরীফ । এককথায় হরিদ্বার উত্তরাখন্ড রাজ্যের দরজা।  পুরাণে উল্লিখিত মায়াপুরী আজকের পবিত্র হিন্দুতীর্থ হরিদ্বার। সপ্তপুরীর অন্যতম এই হরিদ্বারের পূর্বের নাম ছিল কপিলাস্থান। হর ও হরির সহাবস্থান ঘটেছে উত্তরাঞ্চল রাজ্যের সাহারানপুর জেলায় শিবালিক পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ২৯২ মিটার উঁচুতে। ” হরির দ্বার” নাম থেকেই আজ হরিদ্বার।  আবার স...

সাগরপাড়ের রানী ভাইজ্যাক

Image
ভারতের পূর্ব উপকূলের রানী ভাইজ্যাক। পূর্বঘাট পর্বতমালার কোলে অবস্থিত এ শহরে পাহাড়, সমুদ্র, নদী, জঙ্গল মিলেমিশে একাকার। ওরা যেন এ শহরে কানেকানে  ফিসফিসিয়ে কথা বলে দিবারাত্রি একে অপরের সাথে বিরামহীন। আমার অনেক দিনের ইচ্ছা ভাইজ্যাক ঘুরে দেখার। কিন্তু সে ইচ্ছা সাধ্যের মধ্যে হলেও বিভিন্ন কারনে সে সাধ আর মেটে না। হিমালয়ের ডাককে তুচ্ছ করে কোন বছরই  ইচ্ছা থাকলেও পরিকল্পনা করে উঠতে পারি না ভাইজ্যকের ডাকে সারা দিতে। কিন্তু গত বছর ডিসেম্বরে কন্যার ইচ্ছাকে মর্যাদা দিতে মনস্থির করলাম এবছর ভাইজ্যাক যেতেই হবে। তিনমাস আগে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে,২০১৯ এ টিকিট কেটেই রেখেছিলাম। অবশেষে নির্দিষ্ট দিনে চড়ে বসলাম হাওড়া থেকে ইস্টকোষ্ট এক্সপ্রেসে। পরের দিন ভোরেই পৌঁছে গেলাম বিশাখাপত্তনম স্টেশনে।  বিশাখাপত্তনম ভারতের পূর্ব উপকুলে     অন্ধ্রপ্রদেশের একটি সমুদ্র বন্দর। এই শহর ওয়ালটেয়ার বা ভাইজ্যাক নামে পরিচিত।  এই বন্দরনগরী একটি ব্যস্ত বাণিজ্য কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা কেন্দ্র। এখানে আছে ভারতীয় নৌবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তর। আর আছে সরকারি ইস্পাত কারখানা, ভারী শিল্প উ...

ভক্ত

ভক্ত তোমার ভক্তি শুদ্ধ  নয়, কারন তুমি অন্ধ ভক্ত। ভক্ত তুমি নিজের দল ছাড়া  অন্য দলের ভালোকে ভালো বলতে শেখনি। তুমি গোলাম। তুমি তিনু, হনু, কমু যাই হও না কেন তুমি তোমার দলের দালাল। তুমি অন্ধ।  গরীব মানুষ সে যে দলেরই হোক না কেন সে গরীব। তোমার চেতনা  তিনু, হনু, কমুতে ভাগ করেছে। তাই তুমি ভন্ড সমাজসেবী। ভক্ত নও তুমি, বরং তুমি শয়তান তুমি এসব করছ কেবলই ভোটের কথা ভেবে ভক্ত ,আসলে তুমি রাজনীতির কারবারী তুমি মানবতাহীন এক নরকের কীট।