অপাত্রে দানখয়রাতি বন্ধ হোক




সত্যিই যার প্রয়োজন ,সরকার তাকে সুযোগ সুবিধা দান করুক। কিন্তু তা না করে ভোটের স্বার্থে সরকার যেভাবে অর্থের নয়ছয় করে তা দেখে গা জ্বালা করাটাই তো স্বাভাবিক। 
জানিনা, আমার মত আর কারুর গা জ্বলে কিনা?

সকাল থেকেই পাড়ায় পাড়ায় দেখবেন কিছু লোককে দেখি  হাত ভ্যান, মটর ভ্যান নিয়ে চাল, গম, আটা দেবেন  বলে হাঁকতে হাঁকতে ঘুরতে। এরা বিভিন্ন বাড়ি থেকে রেশনের চাল, গম, সংগ্রহ করে। এখন আবার দুয়ারে রেশন। 

দেখবেন দুয়ারে রেশন যেখানে দেওয়া হচ্ছে তার 50-100 মিটার দূরেই এরা দাঁড়িয়ে থাকে। আর রেশন উপভোক্তার কাছ থেকে তা কিনে নেয়।

কি অদ্ভুত ব্যবস্থা। সরকারি প্রতিনিধিরা জানেন না? 
হ্যাঁ তারাও জানেন। এটাই  সিস্টেম। 

আসলে সবটাই দুনম্বরী। 


সরকার চাল দিচ্ছে বিনা পয়সায়। সেই চাল রেশন কার্ড হোল্ডার বস্তা ভর্তি করে নিচ্ছে। নিজেরা ব্যবহার না করে তা আবার বিক্রি হয়ে যাচ্ছে 15-16 টাকা কেজি দরে। সেই চাল আবার ওই বিক্রেতা রাইস মিল মালিককে আর একটু বেশি দামে বিক্রি করছে। রাইস মিল মালিক আবার সেই চাল সরকারকে বিক্রি করছে। এই ভাবেই চলছে সিস্টেমটা। 

পুরো ব্যাপারটা দুনম্বরী নয় কী?

আজকের তারিখটা ও দুনম্বরী। দুই দুই দু হাজার বাইশ 
(2/2/2022)।  মাঝে একটি "শূন্য"। 

কেবলই শূন্য। 

কেন মানুষ রেশনের এই দ্রব্যগুলি বিক্রি করে দেয়? 

এর পিছনে দুটি কারন আছে বলেই আমার মনে হয়।

প্রথম কারন রেশনে যে চাল, গম বা আটা দেওয়া হয়, সেগুলি একশ্রেণীর উপভোক্তার কাছে অখাদ্য। ব্যবহার উপযোগী নয় এতটাই নিম্নমানের।

দ্বিতীয় কারন এগুলি কিছুজনের কাছে প্রয়োজন অতিরিক্ত।

নিচের ছবি দুটি দেখুন  দুয়ারে রেশন দেওয়া হচ্ছে ঠিক তার 50 মিটার দূরেই ভ্যানে ব্যবসায়ীর কাছে তা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। 

এই সিস্টেমে আসলে কোন লাভ হচ্ছে না দেশের, রাজ্যের বা আপামর জনগণের। লাভ হচ্ছে কেবল মিল মালিকের। 
লাভ হচ্ছে সরকারের। 

কারন ভোটটা এইসব দান খয়রাতির মধ্য দিয়ে কনফার্ম হচ্ছে তাদের। জনগণের প্রতিবাদ করার মেরুদন্ডটা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। এসবের মধ্য দিয়ে  সরকারি কোষাগার ধীরে ধীরে শূন্য হচ্ছে। সরকার ঋণ নিচ্ছে। আপনার আমার মাথায় আরো আরো ঋণের বোঝা চাপাচ্ছে সরকার। 

সকল স্কুল ছাত্র-ছাত্রীকে সাইকেল(নিম্নমানের) না দিয়ে যাঁর সত্যিই প্রয়োজন (অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল পরিবারের ছাত্রছাত্রী) তাকেই তো সরকারের দেওয়া উচিত। 
কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, লক্ষীশ্রী, ক্লাবে টাকা ইত্যাদি সার্বজনীন করা আসলে   সরকারের গদি টিকিয়ে রাখার এক নোংরা পন্থা ছাড়া আর কিছুই নয়। 

এসব করে রাজ্যের আসলে ক্ষতিই হচ্ছে। এসব না করে সরকার বেকার যুবক -যুবতীদের চাকুরী দিলে দেশের বরং বেশিই লাভ হবে। সরকার তা কিন্তু করছে না।

 আমি যা লিখছি তা সরকারও বোঝে। সব বুঝেও কেবলমাত্র সরকারের জনবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে জনবিক্ষোভকে দমিয়ে রাখার জন্য  সরকারের এই সব  দান খয়রাতির চিন্তা করেছে । 

দান নেওয়া মানে কর্মবিমুখ হয়ে পরা। কোন কাজ না করেই যদি কিছু পয়সা আমার হাতে এসে যায় তাহলে আমি কর্মবিমুখ তো হবোই। আবার সেই টাকার অপব্যবহার ও করব। 

তাই হচ্ছেও।
 সরকারের দেওয়া 500-1000 টাকা বা কন্যাশ্রীর 25000 টাকা  অনেকেরই নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু তারাও তা নিচ্ছেন হাত পেতে। ওই টাকা মাসিক তাঁদের মাসিক হাতখরচ।

সবশেষে এটাই বলার যাঁর সত্যি প্রয়োজন তাকেই সরকার দিক ক্ষতি নেই বরং তাতেই মঙ্গল। যাঁর প্রয়োজন নেই  পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো তাঁকে দেওয়া বন্ধ  করা হোক। দানখয়রাতি কমিয়ে বেকার যুবক-যুবতীদের চাকুরী দেওয়া হোক। শিক্ষাক্ষেত্রে, স্বাস্থ্যখাতে অধিক ব্যয় বরাদ্দ হোক। দেশের বা রাজ্যের তাতেই মঙ্গল।

#RaiseYourVoice

Comments

Popular posts from this blog

বর্ধমান জেলার অনেক মানুষের সাথে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ছিল নিবিড় যোগাযোগ

সাগরপাড়ের রানী ভাইজ্যাক

ডোডোর কেরামতি