Posts

প্রতিশোধ স্পৃহা

প্রতিশোধ স্পৃহা মনের পক্ষে ও স্বাস্থ্যের পক্ষে খারাপ। কিন্তু অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধ্যে প্রতিশোধ স্পৃহা জাগ্রত রাখা সমাজের পক্ষে ভালো।  তাই প্রতিশোধ স্পৃহাকে জাগ্রত রাখতে হয়, যতক্ষন না শাসককে পরাস্ত করা না হয়। যুগ যুগ ধরে দেখেছি অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধ্যে জাগ্রত জনগন তার প্রতিশোধ স্পৃহাকে জাগ্রত রেখেছে। অবশ্যই সে স্পৃহাকে জাগ্রত রাখতে কেউ না কেউ নেতৃত্বও দিয়েছে। এমনও দেখা গেছে জনগন সঙ্ঘবদ্ধভাবে কোন নেতা ছাড়াই প্রতিশোধ নিয়েছেন অত্যাচারী শাসকের বা শাসন ব্যবস্থার।  আমাদের দেশে রামায়ন মহাভারত সহ বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থেও বলা হয়েছে অত্যাচারীর বিরুদ্ধাচারন করতে।  বর্তমান সময়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সেই প্রতিশোধ নিতে আর অস্ত্র নিয়ে লড়াই করতে হয় না। অস্ত্র নিয়ে শত্রুকে পরাস্ত করার ও আমি বিরোধী। কারন এতে রক্তপাত ঘটে। শত্রু রক্তপাত ঘটালেও চরম অবস্থা ছাড়া আমি নিদেনপক্ষে রক্তপাতের বিরোধিতা করি।  অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধ্যে ব্যালট ও তো এক অস্ত্র। আমি সেই অস্ত্রকে কাজে লাগিয়ে শত্রুকে পরাস্ত করতে চাই।  তাই চাই প্রতিশোধ স্পৃহাকে জাগ্রত রাখতে। 

ডিপ্রেশন

Image
মেঘলা আকাশের দিকে তাকিয়ে আনমনে বসে আছি। সাদা দুটি বক মনের সুখে উড়ে গেল।  মনে হচ্ছে গাছেরা যেন মনের সুখে নৃত্য করছে মৃদু বাতাসে।  এরই মধ্যে দুটি ব্যাঙ একে অপরকে অনুসরণ করছে আর ডাকছে।  বর্ষায় গাছগুলি নতুন পাতায় সেজেছে।  হাঁ বর্ষা এসেছে। মৌসুমী বায়ু বইছে। এই ঘন কালো মেঘ তো কিছুক্ষন পরই রোদ্দুর। নীল আকাশের বুকে সাদা মেঘরাশি  যেন পেঁজা তুলায় রূপান্তরিত।  শুধু আনন্দে নেই এই সময় মানুষের মনে। পৃথিবীর সব চেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণীটি আজ যেন কেমন বিমর্ষ। কত যন্ত্রনা বুকে নিয়ে যেন বেঁচে আছে। আতঙ্কে নেই এমন কেউ বোধহয় নেই। অর্থের দম্ভে মদমত্ত মানুষও আজ আতঙ্কিত । চেন্নাইয়ের সবচেয়ে বড় হাসপাতালের (বিজয়ন হাসপাতাল) মালিকের পুত্র কদিন আগেই করোনায় মৃত্যু হলো। অর্থ , উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও তাঁকে বাঁচাতে পারলো না। যে কারুর মৃত্যুই দুঃখজনক। তবুও অর্থের অহংকারে যাঁরা মদমত্ত তাঁদের বোধহয় বোঝার সময় এটাই যে  ----অর্থ সব সমস্যা থেকে উদ্ধার করে না। প্রকৃতিকে হার মানানোও অত সোজা কাজ নয়। একদিন নিশ্চয় করোনার টিকা আবিষ্কার হবে এ পৃথিবীতে। আর পাঁচটা সাধারণ রোগের মতোই করোনা একট...

না এ কোন কবিতা নয়

সব যেন এলোমেলো হয়ে গেলো এক করোনা সব যেন কেমন গিলে খেলো।  সামাজিক দূরত্ব কেন? বরং হওয়া উচিত তো শারীরিক দূরত্ব,  কিন্তু তা বলছে না ওরা। জানিনা কেন? ট্রেন চলছে না, বাস চলছে কম আত্মীয় স্বজনদেরও তাঁদের বাড়িতে আমায় আমন্ত্রণ জানানোর নেই ইচ্ছা, নেই কো  দম।  সমুদ্রতীর , পাহাড়, জঙ্গলও একা, শুনছি ওরাও অতিথিহীন। এ সব কি হচ্ছে, কেন হচ্ছে?  বাড়িগুলি সব এক একটা পাগলা গারদে পরিণত হবে কি? এ প্রশ্নের উত্তর কে জানে? আমি তো জানিনা।

প্রতিবাদিনী //প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র

Image
                        প্রতিবাদিনী                       প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র  প্রথম অধ্যায় সেইদিন বৃহস্পতিবার। সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। একদিকে লকডাউনের কারনে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ। আগামী বছরই আমার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। আমি পারুল। আমার মন আজ একদম ঠিক নেই। এইভাবে দীর্ঘদিন টিউশনি, স্কুল বন্ধ থাকলে কিভাবে কি হবে? কারই বা মন ঠিক থাকে? তাছাড়া কতদিন হলো বিজয়ের ফুচকার দোকানেও যেতে পারিনি। তবে ফোন করে বন্ধুর থেকে শুনেছি লকডাউনের কারণে বিজয় দাও দোকান খুলছে না। এরই মধ্যে মা ডাক দিল - পারুল আয় মা একটু আলতা পরিয়ে দিই, আজ গুরুবার। আমি রেগে গিয়ে বললাম ,মা জানোই তো আমি আলতা পরতে পছন্দ করি না। তাছাড়া আলতা পড়লে আমার পা চুলকায়, এলার্জি হয়। মা বললেন , সে কি রে। তুই বামুনের ঘরের মেয়ে। আলতা পরবি না বললে হয়? লোকে কি বলবে? তাছাড়া আগামী বছরই আমরা তোর বিয়ে দেব। একপ্রকার পাকা কথা প্রায় হয়েই রয়েছে। ছেলেটাও ভালো শুনেছি। ---- বিয়ে আমি করব না মা এখনই। আমি পড়াশুনা করব। দীপিকাদির মত চা...

অনুশোচনা

Image
প্রকৃতি, কেন তুমি এত নিষ্ঠুর হয়ে উঠছ?  নিজের সাজানো বাগানকে কেন করছ তছনছ।  তোমার গাছপালা, পশু পাখি, মানুষ তাদের বাসস্থান সবই তো একান্তই তোমার।  তবে কেন তুমি বারেবারে দেখাও তোমার এই রুদ্ররূপ ? তুমি তো জানো ,একটা গাছ বড় হতে কত সময় লাগে?  একটা ঘর তৈরি করতে কত পরিশ্রম করতে হয় পশু পাখি বা  মানুষের। কেন তুমি নিজের সাজানো  সংসার  নিজেই ভাঙছ? ও হাঁ , এটা সত্য আমরা মানুষ হুশ হারিয়ে- তোমার উপর করেছি অনেক অত্যাচার, আমরাও করেছি বৃক্ষচ্ছেদন, আমরা করেছি সমুদ্র দূষণ, পাহাড়কে করেছি জঞ্জালের স্তুপে পরিণত, পরিবেশ দূষণ। তা বলে, তুমি নেবে এত বড় প্রতিশোধ? সন্তান ভুল করলে মা তো  ক্ষমা করে তুমি কি পারোনা ক্ষমা করতে? কি বলছ , তুমি অনেকবার ক্ষমা করেছ। আর সহ্য করতে পারছ না?  ও হাঁ, তা ঠিক। তুমিও তো অনেক দিন ধরেই বারেবারে ক্ষমা করেছ।  তবুও আমরা বুঝিনি।  প্লিজ এবার একটু শান্ত হও,  একটু শান্তি , একটু ভয় মুক্ত হতে চাই এবার না হয় আমরা শুধরে নেব আমাদের ভুলগুলি।  প্লিজ প্লিজ....। 24 শে মে,2020

মন আকাশে কালো মেঘ

জানিনা তোর কি হয়েছে, তবে কিছু একটা হয়েইছে। জানি না তুই কেন আনমনা। তবে যাই হোক তুই আমার শেয়ার করতে পারিস।  ---মনের আকাশে কালো মেঘ। গুমট হয়ে আসছে পৃথিবীটা। ঝড় , প্রবল বৃষ্টি, ক্ষরা দেখেছে পৃথিবী কিন্তু এ মেঘ এ অন্ধকার যেন কেমন একটা । এ মেঘে বিষাদের সুর বাজে। এ মেঘ ভেঙে খান খান করেছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের সঙ্ঘবদ্ধতার সুদীর্ঘ ইতিহাসকে। এ মেঘ তাদের একা থাকতে বলে। এ মেঘ বলে দূরত্ব বজায় রাখতে, এ মেঘ বলে জীবনযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করতে। একটা দম বন্ধ করা পরিস্থিতি তৈরি করেছে রিয়া।  যে মানুষটা তিল তিল করে এই পৃথিবীর জন্য জীবনপাত করে চলে গেল, এ মেঘ তাঁর অন্তিম যাত্রায় যেতে বাধা দেয়। কি করে মনকে নিয়ন্ত্রণ করব বল। আমার মুখের বলিরেখাগুলো এই কদিনে কেমন যেন মিলিয়ে গেছে। আমি ভেবে পাই না কি করে আবার স্বাভাবিক ছন্দে পৃথিবী সেজে উঠবে।  পৃথিবীর প্রিয় সন্তান কৃষক আর মাঠে যায় না। রাখাল বাঁশি বাজিয়ে গ্রামের আলপথে গরু নিয়ে যায় না। কলকারখানাগুলো থেকে আর সাইরেন বাজে না। শ্রমিক ক্ষীদের যন্ত্রনায় ডুকরে কেঁদে ওঠে। ছাত্ররা স্কুলে যায় না। জানিস আজই রিম্পার স্কুলের এক দিদিমণি ফোন করেছিলেন।  -উনি ব...

চাঁদের বুড়ি

নিঝুম রাতি একাকি শুয়ে আছি জানালা দিয়ে দেখি চাঁদ চায় পিটিপিটি। চাঁদের বুড়িকে দেখি সেও আছে একাকি। বুড়ি বলে, কেমন আছিস? আমি বলি ভালো নেই বুড়ি এখানে  যে লকডাউন। বুড়ি বলে তাতে কি আমার এখানে তো- প্রতিদিনই লকডাউন। সময়কে মেনে নে ভাই এছাড়া যে উপায় কিছুই নাই। #প্রাণকৃষ্ণ