Posts

অভিশপ্ত ম্যানহোল

Image
অভিশপ্ত ম্যানহোল(ছোট গল্প) #প্রাণকৃষ্ণ সবে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে শৈবাল কলকাতায় পড়তে গেছে। কলকাতা শহরের আনাচে কানাচে ওর কাছে বড্ড অচেনা। গ্রামের ছেলে ,কোন আত্মীয় স্বজনের বাড়ি না থাকায় একটি মেসে থাকে।ওর অনুসন্ধিৎসু চোখ সন্ধ্যার সময় প্রতিদিন চিনে নিতে চায় মেসের চারিপাশে অলিগলি। সে দিন ও, একটি নতুন গলি দিয়ে অন্ধকারে হাঁটছিল। এই রাস্তার আশেপাশের বাড়ি গুলি সবই সাবেকি আমলের। কেমন যেন মেরমেরে। হাঁটার সময় রাস্তায় তেমন খেয়াল নেই। খানা খন্দে মাঝেসাঝে পা পড়লেও তেমন একটা অসুবিধা হচ্ছে না। হঠাতই রাস্তার বাঁক ঘুরে যেখানে মেন রোডে মিশেছে চোখ ধাঁধানো আলোয় খেয়াল না করায় খোলা ম্যানহোলে পড়ে যায় শৈবাল। রাত্রি তখন প্রায় ৯ টা। সন্ধ্যার সময় হালকা বৃষ্টি হওয়ায় সচরাচর এই পথে লোকজন থাকলেও সেদিন কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা। ম্যানহোলের ভিতর থেকে ওঠার অনেক চেষ্টা করলেও নর্দমার জলের প্রবল জলস্রোতে সে কোন মতেই উঠতে পারে না। এদিকে পরে গিয়ে গা, হাত ,পা ছিঁড়ে গেছে। পায়ে প্রচন্ড আঘাত লাগায় যন্ত্রনা হচ্ছে । ম্যানহোলের ভিতর থেকে বেশ কয়েকবার উচ্চ কন্ঠে বাঁচাও বাঁচাও করে চিৎকার করেও কেউ উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে না। এদিকে মেস...

বাঁদরের পাল্লায়

Image
সেবার দার্জিলিং গেছি। আমার জীবনে প্রথম বঙ্গের শৈল শহর দর্শন। খুব স্বাভাবিক কারণেই আবেগ উৎকণ্ঠা বেশি। আমার এক বন্ধুর পরিবার পরিজনরা যাচ্ছেন। বাবার কাছে ঝোঁক ধরলাম আমিও যাব ওদের সাথে। প্রথমে বাবা রাজি হননি। কিন্তু পরে আমার জেদের কাছে হার মানতে বাধ্য হলেন এই বলে যে- "যাবে যাও কিন্তু আমি পয়সা কড়ি দিতে পারব না"। যদিও আমার মনে আছে যাবার সময় বাবা ৫০০ টাকা দিয়েছিলেন। ১৯৯৬-১৯৯৭ সালের ঘটনা। তখন ৫০০ টাকার মূল্য ভালোই ছিল। সে যাই হোক ঘোরসওয়ার রোডে(দার্জিলিং ম্যালের উপরে) একটি অপরিচ্ছন্ন জায়গায় আমাদের হোটেল নেওয়া হয়েছিল। যদিও এই জায়গাটি এখন বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। হোটেলগুলো বেশিরভাগই পাহাড়ের কোলে কাঠের তৈরি। জানলা দিয়ে বা বারান্দায় বেরুলে হোটেলগুলো থেকে পাহাড় বেশ পরিষ্কার দেখা যায়। এই রাস্তাটি একটু অপরিচ্ছন্ন বলে ভাড়াও এই জায়গায় কম থাকতো। যদিও আমার কাছে ঘুরতে গিয়ে হোটেলের বাছবিচার  চিরকাল কমই। মুখ্য উদ্দেশ্য জায়গাটি ঘুরে দেখা। তবে হোটেলের রুম পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কিনা, এট্যাচ বাথরুম আছে নাকি এগুলিই দেখে নিই। যাই হোক এই হোটেলটি মন্দ নয়। তাছাড়া এটিই আমার জীবনে কাঠের ঘরে থাকার প্রথম অভ...

রাজনৈতিক কোন রচনা নিরপেক্ষ নয়

রাজনৈতিক "যুক্তি তর্ক" করতে করতে আমার একজন বন্ধু আমায় একটু লেখাপড়া করার পরামর্শ দিলেন। উনি বলেছিলেন ওই পুস্তকগুলিও  উনি সরবরাহ করবেন। যদিও বই কেউ কাউকে দিতে চায়না। কারন...

রাজ্যে সর্বস্তরের কর্মচারীরা আজ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার

কর্মক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া আজ একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আপনি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক অথবা আপনি কোন নেতা, মন্ত্রীর বিরুদ্ধাচারণ করেছেন ,নেতার প্...

স্মৃতিতে রমাকান্ত

ছেলেটির নাম রমাকান্ত মুখার্জি। অখ্যাত অজপাড়া গাঁয়ের হাসিখুশি, খোলামেলা চরিত্রের একজন মানুষ। শৈশব থেকেই লেখাপড়ায় খুব একটা মন ছিল না রমাকান্তের। সুদর্শন চেহারার এই যু...

দেবভূমির পথে মহাত্মার দেখা

Image
দেবভূমির কেদারনাথ ও বদ্রিনাথের পথে আমার দেখা হয়েছিল এই মহাত্মা সন্ন্যাসীদের সঙ্গে। প্রচন্ড শীতে এই বছর মে মাসে যখন আমরা কাঁপছি তখন এনারা স্বল্প বসনে অথবা একেবারে নগ্ন হয়ে হাসিমুখে গল্প করছেন,আর্শীবাদ করছেন আমাদের। মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে শৈত্য প্রবাহের কারনে আমাদের গায়ে যখন ৪-৫ টি জামা ,মাথায় টুপি, মাফলার, পায়ে জুতা,মোজা- তখন এনারা নগ্ন দেহে। এর কি রহস্য?  দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতির সাথে মানিয়ে নেওয়া একটা কারণ অবশ্যই। কিন্তু ১-২ ডিগ্রি বা কখনো -১ ডিগ্রি তাপমাত্রায় এইভাবে সাধনা করা কি ভাবে সম্ভব উত্তর খুঁজে পাইনি। অবাক হয়ে দেখেছি আর ভেবেছি। এনাদের চোখে মুখে এক ঐশ্বরিক প্রশান্তি। আমি সামনে দাঁড়াতেই আমার কন্যার সম্পর্কে কিছু কথা বললেন তা সবটাই সত্য। কি করে জানলেন একজন অপরিচিত ব্যক্তির আচার, আচরণ, স্বভাব। শুধুই সম্মোহিনী শক্তি? উত্তর খুঁজে পাইনি আজও। আজও আমায় ভাবায়।                       কেদারনাথ মন্দির প্রাঙ্গনে                            মানা গ্রামের গুহা...

যে ব্যবস্থাগুলো নতুন সরকার গ্রহণ করলে আমি আনন্দ পাইব।

প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভারত সরকার মহাশয়, আপনার প্রতি আমার এই খোলা চিঠি। আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এই কটি কথা বলে- ১.অখন্ড ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতাজীর ...