রাজনৈতিক কোন রচনা নিরপেক্ষ নয়

রাজনৈতিক "যুক্তি তর্ক" করতে করতে আমার একজন বন্ধু আমায় একটু লেখাপড়া করার পরামর্শ দিলেন। উনি বলেছিলেন ওই পুস্তকগুলিও  উনি সরবরাহ করবেন। যদিও বই কেউ কাউকে দিতে চায়না। কারন এটি ফেরৎ পাবার চান্স খুব কম থাকে।

সে যাই হোক "সাদাত হোসেন"নামের কোন লেখকের একটি বই আমায় পড়ার প্রসঙ্গে উনি বলায় আমার মনে একটি প্রশ্ন উদয় হলো। যদিও উক্ত বইটি পড়া হয়নি এখনো। তবুও বন্ধুদের কাছে আমার মনের প্রশ্নের বিষয়টি রাখছি আলোচনার জন্য।

//    //

যে কোন লেখকের যে কোন রাজনৈতিক বিষয়ের উপর বা জাতিগত বিষয়ের উপর লেখা বই কি নিরপেক্ষ হয়?
লেখক নিজে যে রাজনৈতিক মতের পক্ষে তিনি স্বাভাবিক কারণেই তাঁর মতাদর্শের বা চিন্তাপ্রসূত পক্ষের হয়েই তো লেখেন?
এমনকি গবেষণা ভিত্তিক লেখাও লক্ষ্য করবেন তা যদি রাজনৈতিক বা সমাজভিত্তিক লেখা হয় তাতেও লেখকের নিজস্ব চিন্তারই প্রতিফলন ঘটে।
তাই আমার মনে হয় কোন লেখকের লেখাই সমালোচনার উর্দ্ধে নয়।

আমি আপনি প্রত্যেকেই একটা মত ও পথের পক্ষে। আপনি যতই বলুন আপনি নিরপেক্ষ, সাধারণ মানুষ কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। নিরপেক্ষ বলে রাজনীতিতে কোন কথা ঠিক নয়। আপনি যখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন, ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন তখন আপনি নিরপেক্ষ কি করে হন?
সুতরাং বুদ্ধিজীবী, লেখক, শিল্পী , ডাক্তার, শিক্ষক কেউ এ সমাজে নিরপেক্ষ নন।

একটা উদাহরণ দিই। মোহন ভাগবতের একটি লেখা বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার আঙ্গিকে যেমন নিরপেক্ষ হতে পারে না ঠিক তেমনি ইরফান হাবিব বা অমর্ত্য সেনের কোন লেখা ও নিরপেক্ষ আঙ্গিকে লেখা হতে পারে না।

এটাই চির সত্য ও ধ্রুব সত্য।
সেই কারণেই কোন বিষয়ের উপর জানতে গেলে একাধিক বই পড়তে হয়।

যদি ভুল কিছু লিখে থাকি সংশোধন করে নেব। আসুন আলোচনা করি।

Comments

Popular posts from this blog

বর্ধমান জেলার অনেক মানুষের সাথে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ছিল নিবিড় যোগাযোগ

সাগরপাড়ের রানী ভাইজ্যাক

ডোডোর কেরামতি