রাজ্যে সর্বস্তরের কর্মচারীরা আজ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার
কর্মক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া আজ একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আপনি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক অথবা আপনি কোন নেতা, মন্ত্রীর বিরুদ্ধাচারণ করেছেন ,নেতার প্রস্তাবে আপনি রাজি হননি বিবেকের কারনে-তাহলেই আপনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন কর্মস্থলে।
সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচনের আগে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধ্যে আমার এক লেখক বন্ধু একটি প্রতিবেদন লিখেছিলেন ফেসবুকে । এর পরই শুরু হয় হুমকি, বাড়ি ভাঙচুর। সব শেষে বেসরকারি স্কুলের ওই সনামধন্য শিক্ষকের চাকুরী ও চলে যায়।
সেই অম্বিকেশ মহাপাত্রকে দিয়ে শুরু হয়েছে এই অত্যাচার এ রাজ্যে। দিন দিন এ অত্যাচার বাড়ছে বৈ কমছে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শাসক দলের নেতা নেত্রীদের অঙ্গুলিহেলনেই কর্মক্ষেত্রে এমন প্রতিহিংসা ছড়ানো হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। এমন কি অফিস গুলিতে সর্বক্ষণ রক্তচক্ষুর কিছু মানুষকে হাজির রাখা হয় সর্বক্ষণ।
এই সময়ে সরকারি কর্মচারীদের ইউনিয়ন করার অধিকার কেড়ে নেবার চেষ্টা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন যাবৎ অন্যান্য রাজ্যসরকারগুলি ও কেন্দ্রীয় সরকার কর্মচারীদের নির্দিষ্ট সময়ে DA, PAY COMMISSION দিলেও এরাজ্যে তা বন্ধ। সরকারি কর্মচারীরা বেশ কিছুদিন আগে খোদ নবান্নে ও সল্টলেকে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়ায় তাঁদের উত্তরবঙ্গে স্থানান্তরিত(নির্বাসন) করা হয়েছিল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এই স্তরে আজ।
আজ বিভিন্ন সরকারি অফিসে লক্ষ্য করবেন পার্ট টাইম ওয়ার্কার নেওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা অল্প শিক্ষিত। কাজ চালিয়ে নেওয়া হয় তাঁদের দিয়ে অল্প বেতনে। তাঁরা সকলেই রাজনৈতিক কর্মী তা হোক, কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতা তাঁদের তেমন না থাকায় কাজে ভুল করছেন। তবুও রাজনৈতিক কারণে স্থায়ী কর্মচারীরা যোগ্য হলেও সেই সব কাজে তাঁদের যুক্ত করা হয় না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে সরকারি কর্মচারীদের আজ অনেককেই তুচ্ছজ্ঞান করা হয়। হেয় হতে হয় অফিসে ,আদালতে।
এমন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার আপনি, আমি, আমাদের মত অনেকেই। নেতা হবারও একটা শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা দরকার। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই যোগ্যতার অভাবে একজন শিক্ষিত মানুষকেও অশিক্ষিত নেতার মুখে গালিগালাজ শুনতে হয় মুখ বুজে। স্বশাসিত অফিসগুলোতে এই প্রতিহিংসা প্রত্যক্ষ সরকারি অফিস বা কর্পোরেট অফিসের তুলনায় আরো কয়েকগুণ বেশি।
একজন ইঞ্জিনিয়ার বা বিডিও কে একজন স্থানীয় অশিক্ষিত পঞ্চায়েত সদস্যের মুখে যখন গালিগালাজ শুনতে হয় অফিসের মধ্যে তাঁর থেকে যন্ত্রনা আর কিছুতে বেশি নেই। কিন্তু কেবল চাকুরী করতে এসেছেন বলে মুখ বুজে সেই লাঞ্ছনা শুনতে হয়। প্রাণনাশের হুমকি মুখ বুজে মেনে নিতে হয়। কারন উত্তেজিত হয়ে তিনি যদি বিচার চেয়ে পুলিশের দ্বারস্ত হবার কথা ভুলেও ভাবেন তাহলে বিপদ আরো বাড়ে। যদিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কারণে এসব ঘটনা পুলিশ নথিভুক্ত করতে চায় না। চাপ আছে তাঁদের উপরও।
বাংলা তাঁর অতীতের গরিমা হারিয়েছে। বিরোধী দলের নেতা, কর্মীদের যে সম্মান ছিল সে সম্মান আজ নেই। সরকারি কর্মী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক বিভিন্ন পেশায় যুক্ত মানুষকে আজ কেবল চাকর ভাবা হয়।
আরো বড় সমস্যা জনগনের চোখে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধ্যে ক্ষেপিয়ে দেবার এক প্রয়াস শুরু হয়েছে। অনেকটাই সফল তাঁরা যাঁরা এই কাজ করেছেন।
তাই সতর্কতা অবলম্বন জরুরি ।
Comments