Posts

বিশ্ব উষ্ণায়ন , পরিবেশ দূষণই দায়ী করোনা মহামারীর জন্য, এই ভাইরাস বহু বর্ষ আগেও ছিল

Image
আরো আরো গাছ কাটা হোক। নদীতে যেখানে সেখানে বাঁধ দিয়ে আরো আরো জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলে নদীর গতিকে আটকে দেওয়া হোক। হোক পুকুর, নদী বুজিয়ে অট্টালিকা তৈরি।  তেজস্ক্রিয় দ্রব্য উৎপাদনের বৃদ্ধি এমন করা হোক যাতে পৃথিবীর আকাশে ধুঁয়ায় ভরিয়ে তোলা যায়।  হোক প্রতিযোগিতা, সারা পৃথিবীকে কংক্রিটের  স্বর্গরাজ্য বানানোর।  দূষণ দূষণ দূষণ দূষণ - ভাইরাসের শক্তিবৃদ্ধির মূল কারণ দূষণ। সারা বিশ্বকে রাষ্ট্রনেতাদের কুচক্রান্ত দূষিত করেছে। আজকের পৃথিবীতে পরিবেশ সচেতন দেশের সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকটি।  মারন ভাইরাস করোনা আগেও ছিল।  দূষণের মাত্রা বৃদ্ধির কারণেই আজ এই ভাইরাস অধিক শক্তি সঞ্চয় করে মানুষ মারার খেলায় অবতীর্ণ।  এসব  কথা  এতদিন অনেকেই বোঝেন নি।  পরিবেশবিদরা বারবার আমাদের সচেতন করলেও রাষ্ট্রনেতা থেকে শুরু করে সাধারণ আম- আদমি কেউই কানে নেননি।  কিন্তু আজ অনেকেই বুঝছেন দূষণই এইসব ভাইরাসের শক্তি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। প্রকৃতি দূষণ মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে পৌছানোই করোনার মত মারন ভাইরাসের শক্তি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।  পরিবেশ বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে পরিব...

উড়তে উড়তে উড়োজাহাজে

Image
উড়তে উড়তে উড়োজাহাজে প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র উড়োজাহাজে চড়ে  আকাশে উড়ব এ আমি  স্বপ্নেও কোনদিন ভাবিনি। কারন উড়োজাহাজে চড়ে ভ্রমন আমার বিলাসিতা মনে হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমনের উদ্দেশ্যে যেখানেই গেছি ট্রেন ,বাস এই দুই মাধ্যমকেই ব্যবহার করেছি।  আমার পূর্বপুরুষরাও আজ পর্যন্ত কোনদিন উড়োজাহাজে চাপেননি। কারন তাঁদেরও উড়োজাহাজে চড়ার প্রয়োজন পড়েনি। সত্যি কথা বলতে কি ট্রেনে বাসে বা ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়া করে ভ্রমনেই আমি চিরকাল অভ্যস্ত। ট্রেনে বা বাসে চেপে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটানো ও ভ্রমনের অঙ্গ, আলাদা মজা।  শৈশবে গ্রামে থাকতাম। মনে পরে শৈশবে ডাবগাছের বা তালগাছের পাতার উপর বসে আমরা গাড়ি গাড়ি খেলতাম। সে গাড়িতে কখনো আমি যাত্রী হতাম তো আমারই কোন বন্ধু গাড়ির চালক হতো। এক হাতে করে সেই গাছের পাতাটিকে ধরে মোরামের রাস্তা দিয়ে উর্ধশ্বাসে  ছুটতে হতো। যে বসে থাকতো তার আরাম হতো ঠিকই, কিন্তু  যে পাতাটিকে ধরে ছুটত তার প্যান্ট হলুদ হতো। আমি বরাবরই রোগাসোগা ছিলাম। তাই আমি যখন টানতাম তখন এক হাতে প্যান্ট ধরে অন্য হাত দিয়ে গাছের ডালটিকে ধরে ছুটতাম। কারন অনেকবার এমন হয়েছে কিছুটা দৌড়া...

অন্ধকার সময়

অন্ধকার সময় প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র ঘুটঘুটে অন্ধকার একফোঁটা আলো নেই নেই বাতাসও এযেন ভয়ঙ্কর বিপদের পূর্বাভাস। মানুষগুলো কেউ মন্দিরে মাথা ঠুকতে ছুঁটছে কেউবা মসজিদে, চার্চে বা গির্জায়- একবার বেঁচে যাবার চেষ্টা। কেউ ভাবছে না, বিচার করছে না যুক্তি, বিজ্ঞান । ভাবছে না,সময়ের নিয়মেই অন্ধকার একদিন কেটে যাবে আবার আলোময় হবে । ওরা ছুটছে  কারন যদি হয় ভালো, ওরা বলবে তখন দেখেছ - আমরাই ঠিক ছিলাম বদলে দিয়েছি , হারিয়ে দিয়েছি অন্ধকার দস্যুটাকে।

প্রতিশোধ স্পৃহা

প্রতিশোধ স্পৃহা মনের পক্ষে ও স্বাস্থ্যের পক্ষে খারাপ। কিন্তু অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধ্যে প্রতিশোধ স্পৃহা জাগ্রত রাখা সমাজের পক্ষে ভালো।  তাই প্রতিশোধ স্পৃহাকে জাগ্রত রাখতে হয়, যতক্ষন না শাসককে পরাস্ত করা না হয়। যুগ যুগ ধরে দেখেছি অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধ্যে জাগ্রত জনগন তার প্রতিশোধ স্পৃহাকে জাগ্রত রেখেছে। অবশ্যই সে স্পৃহাকে জাগ্রত রাখতে কেউ না কেউ নেতৃত্বও দিয়েছে। এমনও দেখা গেছে জনগন সঙ্ঘবদ্ধভাবে কোন নেতা ছাড়াই প্রতিশোধ নিয়েছেন অত্যাচারী শাসকের বা শাসন ব্যবস্থার।  আমাদের দেশে রামায়ন মহাভারত সহ বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থেও বলা হয়েছে অত্যাচারীর বিরুদ্ধাচারন করতে।  বর্তমান সময়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সেই প্রতিশোধ নিতে আর অস্ত্র নিয়ে লড়াই করতে হয় না। অস্ত্র নিয়ে শত্রুকে পরাস্ত করার ও আমি বিরোধী। কারন এতে রক্তপাত ঘটে। শত্রু রক্তপাত ঘটালেও চরম অবস্থা ছাড়া আমি নিদেনপক্ষে রক্তপাতের বিরোধিতা করি।  অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধ্যে ব্যালট ও তো এক অস্ত্র। আমি সেই অস্ত্রকে কাজে লাগিয়ে শত্রুকে পরাস্ত করতে চাই।  তাই চাই প্রতিশোধ স্পৃহাকে জাগ্রত রাখতে। 

ডিপ্রেশন

Image
মেঘলা আকাশের দিকে তাকিয়ে আনমনে বসে আছি। সাদা দুটি বক মনের সুখে উড়ে গেল।  মনে হচ্ছে গাছেরা যেন মনের সুখে নৃত্য করছে মৃদু বাতাসে।  এরই মধ্যে দুটি ব্যাঙ একে অপরকে অনুসরণ করছে আর ডাকছে।  বর্ষায় গাছগুলি নতুন পাতায় সেজেছে।  হাঁ বর্ষা এসেছে। মৌসুমী বায়ু বইছে। এই ঘন কালো মেঘ তো কিছুক্ষন পরই রোদ্দুর। নীল আকাশের বুকে সাদা মেঘরাশি  যেন পেঁজা তুলায় রূপান্তরিত।  শুধু আনন্দে নেই এই সময় মানুষের মনে। পৃথিবীর সব চেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণীটি আজ যেন কেমন বিমর্ষ। কত যন্ত্রনা বুকে নিয়ে যেন বেঁচে আছে। আতঙ্কে নেই এমন কেউ বোধহয় নেই। অর্থের দম্ভে মদমত্ত মানুষও আজ আতঙ্কিত । চেন্নাইয়ের সবচেয়ে বড় হাসপাতালের (বিজয়ন হাসপাতাল) মালিকের পুত্র কদিন আগেই করোনায় মৃত্যু হলো। অর্থ , উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও তাঁকে বাঁচাতে পারলো না। যে কারুর মৃত্যুই দুঃখজনক। তবুও অর্থের অহংকারে যাঁরা মদমত্ত তাঁদের বোধহয় বোঝার সময় এটাই যে  ----অর্থ সব সমস্যা থেকে উদ্ধার করে না। প্রকৃতিকে হার মানানোও অত সোজা কাজ নয়। একদিন নিশ্চয় করোনার টিকা আবিষ্কার হবে এ পৃথিবীতে। আর পাঁচটা সাধারণ রোগের মতোই করোনা একট...

না এ কোন কবিতা নয়

সব যেন এলোমেলো হয়ে গেলো এক করোনা সব যেন কেমন গিলে খেলো।  সামাজিক দূরত্ব কেন? বরং হওয়া উচিত তো শারীরিক দূরত্ব,  কিন্তু তা বলছে না ওরা। জানিনা কেন? ট্রেন চলছে না, বাস চলছে কম আত্মীয় স্বজনদেরও তাঁদের বাড়িতে আমায় আমন্ত্রণ জানানোর নেই ইচ্ছা, নেই কো  দম।  সমুদ্রতীর , পাহাড়, জঙ্গলও একা, শুনছি ওরাও অতিথিহীন। এ সব কি হচ্ছে, কেন হচ্ছে?  বাড়িগুলি সব এক একটা পাগলা গারদে পরিণত হবে কি? এ প্রশ্নের উত্তর কে জানে? আমি তো জানিনা।

প্রতিবাদিনী //প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র

Image
                        প্রতিবাদিনী                       প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র  প্রথম অধ্যায় সেইদিন বৃহস্পতিবার। সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। একদিকে লকডাউনের কারনে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ। আগামী বছরই আমার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। আমি পারুল। আমার মন আজ একদম ঠিক নেই। এইভাবে দীর্ঘদিন টিউশনি, স্কুল বন্ধ থাকলে কিভাবে কি হবে? কারই বা মন ঠিক থাকে? তাছাড়া কতদিন হলো বিজয়ের ফুচকার দোকানেও যেতে পারিনি। তবে ফোন করে বন্ধুর থেকে শুনেছি লকডাউনের কারণে বিজয় দাও দোকান খুলছে না। এরই মধ্যে মা ডাক দিল - পারুল আয় মা একটু আলতা পরিয়ে দিই, আজ গুরুবার। আমি রেগে গিয়ে বললাম ,মা জানোই তো আমি আলতা পরতে পছন্দ করি না। তাছাড়া আলতা পড়লে আমার পা চুলকায়, এলার্জি হয়। মা বললেন , সে কি রে। তুই বামুনের ঘরের মেয়ে। আলতা পরবি না বললে হয়? লোকে কি বলবে? তাছাড়া আগামী বছরই আমরা তোর বিয়ে দেব। একপ্রকার পাকা কথা প্রায় হয়েই রয়েছে। ছেলেটাও ভালো শুনেছি। ---- বিয়ে আমি করব না মা এখনই। আমি পড়াশুনা করব। দীপিকাদির মত চা...