একজন সংগ্রামীর জীবনকথা
(সত্য ঘটনা অবলম্বনে ছোট গল্প। ছেলেটির নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করেছি। পড়ুন। ভালো লাগলে শেয়ার করুন ও কমেন্ট করুন।)
//প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র//
প্রথম পর্ব
স্বর্গাশ্রম থেকে রামঝুলার পথে হাঁটছি। একটুখানি পথ, খুব জোর ২ কিমি।
যদিও এইটুকু পথই অনেকে গাড়ি ভাড়া করে যাচ্ছেন।
আমার আবার পাহাড়ি পথে হাঁটতেই ভালো লাগে। ---কিরনকে বললাম চলো আমাদের হাতে তো অনেকটাই সময় আছে। আজ তেমন তাড়াহুড়ো নেই, হেঁটেই মেরে দিই এটুকু পথ।
আমগাছের ছায়াঘন পথে দুজনে গল্প করতে করতে ততক্ষনে অনেকটাই পথ পারি দিয়েছি। কয়েকটি বাগান রাস্তা থেকে আলাদা করার জন্য বেড়া দিয়ে ঘেরা। আর সেই প্রশস্ত বাগানের মধ্যে ছোট ছোট আশ্রম। সাধু মহাত্মাদের বাস। এই স্বর্গাশ্রমের পথটি আমার বেশ ভালোই লাগে । আগেও বেশ কয়েকবার এসেছি। তাই পথঘাট এখানে অজানা নয়।
কিরনকে বললাম আর কিছুটা গেলেই রামঝুলা পৌঁছাবে। রামঝুলার আশেপাশে অনেকগুলি মন্দির আছে, তোমার সেগুলি দেখলে ভালো লাগবে। চলো হাঁটতে হাঁটতেই একটা একটা করে দেখে নেব সেইসব মন্দিরগুলো। মূলত ভারত মন্দির, ত্রমবকেশ্বর মন্দির, লক্ষণ মন্দির আমার ভালো লাগে।
এদিকে গলাটাও শুকিয়ে গেছে। মার্চ মাস এইসময় বেশ ভালোই আবহাওয়া থাকে ঋষিকেশে। তবে আজ যেন বেশ গরম লাগছে। আমের মুকুলগুলোগুলোও ঝড়ে পড়ছে পথে। দুএকটা মাথায়। মন্দিরের বাগানে ভোরের শিশিরের স্পর্শে গোলাপ, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকাগুলো তরতাজা। সে সব দেখতে দেখতেই পথচলছি, হঠাৎই কানে এলো
---"জয় শিব শম্ভু। বাবু কুছ ভিকসা দে দো"।
ডান দিকে ঘাড় ঘুরাতেই চোখ পৌঁছায় ভিক্ষুকের চোখে । মিষ্টি মুখ, মলিন হাসি চোখেমুখে । সুঠাম চেহারা , বলিষ্ঠ বাহু যুগল কিন্তু একটি পা নেই । একটি তিন চাকা বিশিষ্ট সাইকেলে আরোহন করে আছেন। বয়স বছর পঁচিশ হবে হয়ত। মাথার চুল উস্কোখুস্ক। তবে পরনের জামা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।
আমার দেখে মায়া হয়।
আমি কিরনের হাতটা টেনে ধরে বললাম দাঁড়াও।
ভিক্ষুক বললে, স্যার আপনি বাঙালি?
আমি স্ব- গর্বে বললাম হাঁ ভাই আমি বাঙালি। তুমি বাংলা ভাষা জানো বুঝি?
ছেলেটি বলল হাঁ স্যার। আমিও বাঙালি। তবে আমি বাংলা ,হিন্দি ফ্রেঞ্চ, ইংরেজি ভাষাও জানি। কথা বলতে পারি।
আমি অবাক হয়েই জানতে চাইলাম , তা তোমার বাড়ি কোথায়, এখানে কত বছর এসেছ?
বসে বসে গল্প শুরু হলো। এই বিদেশ বিভুঁইয়ে বাঙালি ভিক্ষুক তাই একটু সময় দিতে ইচ্ছা হলো। একটা সিগারেট ধরালাম। ছেলেটি আমায় সিগারেট চাইতে ওকেও একটি সিগারেট দিলাম।
বন্ধুত্ব জমে উঠল এই ভাবেই ।
ছেলেটি বলতে শুরু করে এবার। ওর বাড়ি সোমড়াবাজার। ছোট থেকেই ও খুব ডাকাবুকো স্বভাবের ছিল। গরীবের ছেলে। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পার করার পর আর লেখাপড়া হয়নি। যৌবন বয়সের দরজায় কড়া নাড়ানোর পরই গ্রামে একটা অশান্তিতে জড়িয়ে পড়ে । সেই জন্য জেল ও খাটতে হয়েছে। তারপর সঙ্গদোষে অন্ধকার জগতে প্রবেশ। এরই মধ্যে গ্রামের একটি মেয়ের সাথে ভালোবাসা হয়। স্বপ্ন ছিল একসাথে ঘর বাঁধার। সেই সময়ে অবশ্য অন্ধকার জগৎ থেকে ও বেরিয়ে এসে ট্রেনে হকারি শুরু করেছে।
হঠাতই আমার হাতটা চেপে ধরে বলে একটু দাঁড়ান স্যার। দুজন বিদেশি আসছেন। আমিও দেখলাম হাঁ দুজন ফরেনার আসছেন। ওনারা একটু কাছে আসতেই …….
বাপি জোর হাত করে ওনাদের সম্ভাষণ করতে করতে অনর্গল বলে চলল ও একটি বোর্ড বুকের কাছে ধরলো -
Good morning friends .You're welcome in Rishikesh, Uttarakhand. I am Bapi . I am a beggar with disabilities. My right leg was cut off at the wheel of the train. Help me something.
ফরেনার দুজন সেসবে কোন কর্ণপাতই করল না।
এবার বাপিকে আমি বললাম, ভাই তুমি তো মোটামুটি ভালোই ইংরেজি জানো। বেশ লাগল তোমার কথাগুলি।
বাপি বলল - তেমন কিছু জানি না। একজন ফরেনার আমাকে এগুলি শিখিয়েছেন। পরে তার কথাও বলব আপনাকে। তবে যেকথা এখন বলছিলাম আগে সেই হিস্ট্রি শুনুন -
হকারি করে বেশ ইনকাম হচ্ছিল। সংসার চলছিল ভালোই। ভেবেছিলাম বাড়ি করেই বিয়ে করব। কিন্তু তা আর হলো না।
একদিন হকারি করতে করতে এক কামরা থেকে অন্য কামরায় তাড়াতাড়ি যাবার সময় পা পিছলে যায়। আমি পরে যাই ট্রেনের ও প্লাটফর্মের মাঝের ফাঁকে। এদিকে ট্রেন ছেড়ে দেয়। স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আমায় বাঁচালেও আমার ডান পা কেটে বাদ দিতে হয় । বেশ কয়েকমাস কলকাতায় ছিলাম।
আমি জানতে চাইলাম তারপর কি হলো?
বাপি বলল কদিন আছেন এখানে? আপনাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে তো।
বললাম ঠিক আছে। তুমি বলো।
-তারপর বাড়িতে ফিরে আসি। বেশ কয়েকমাস কাজ করতে পারছি না। কদিন আর দাদা বৌদিরা মেনে নেবে বলুন। রোজই অশান্তি আমায় নিয়ে। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম বাড়ি ছেড়ে কোথাও চলে যাব। হয় ভালোভাবে বাঁচব, নয়ত মরব।
তোমার সেই প্রেমিকা? সে ও কি ….
সে তো আমার ওই দুর্ঘটনার পরই আমার সাথে যোগাযোগ রাখা বন্ধ করে দেয়। খোঁড়া লোকের সাথে কে চায় সংসার করতে বলুন?
বাপির চোখ ছলছল।
এদিকে ততক্ষনে আমারও গলা ভারী হয়ে গেছে। কোন রকমে সামলে নিয়ে কিরনকে বললাম কিরণ বিরক্ত হচ্ছ না তো। আর একটু কথা বলে মন্দির দর্শন করব। চিন্তা নেই আজ তো রাতে আমরা হরিদ্বারেই থাকব। আগামী কাল ফেরার ট্রেন । তাই চাপ নেই।
বাপি বলল - আজ আমার বাড়িতে থেকে যান দাদা। আমার স্ত্রী খুব আনন্দ পাবে।
তুমি বিয়ে করেছ বাপি?
হাঁ দাদা সে অনেক কাহিনী। শুনবেন?
আমি বললাম হাঁ শুনব। তুমি বলে যাও।
দ্বিতীয় পর্ব
একদিন বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়লাম দাদা। হাওড়া স্টেশনে এসে বসে আছি। ভাবছিলাম বোম্বাই যাব। কিন্তু সে সময় কোন ট্রেন নেই। আমার কাছে ছিল মাত্র ১০০ টাকা। হাওড়াতেই দুপুরে খেতে ৩০ টাকা খরচ হয়ে গেছে।
কানে এলো মাইকের শব্দ- উপাসনা এক্সপ্রেস ৮ নং প্লাটফর্ম থেকে ছাড়বে। হঠাতই ভাবলাম এই গাড়ি তো হরিদ্বার যাবে। তাহলে হরিদ্বারই যাই। চড়ে বসলাম উপাসনায় একটি কামরায়। বর্ধমান ঢোকার আগে রেল পুলিশ ও চেকাররা এসে টিকিট চাইতে বললাম আমি খোঁড়া মানুষ। টিকিট কাটার পয়সা নেই।
একজন চেকার জানতে চাইল কোথায় যাব? আমি বললাম- হরিদ্বার।
একজন বললেন হরিদ্বার তো অনেকটা পথ। আমি যেন বর্ধমানে ট্রেন থেকে নেমে যাই। এটা রিজার্ভেশন কামরা।
- বললাম স্যার একটু দয়া করুন।
একজন চেকারের একটু মায়া দয়া হলো। বললেন ঠিক আছে এই গেটের কাছে বসে যেতে পারলে যা। কিন্তু রাতে জেনারেল কামরায় চলে যাবি। নয়ত অন্য টি টি এলে নামিয়ে দেবে।
তবে কেউ আর ট্রেন থেকে সেদিন নামায়নি স্যার।
- তারপর?
পরের দিন সন্ধ্যায় হরিদ্বার পৌছালাম। সারাদিন প্রায় অভুক্ত। একজন ট্রেনে দুপুরে ২ টি রুটি দিয়েছিলেন। সেটুকুই ।
হরিদ্বার এসে সেদিন রাতে হর -কি- পৌরি গঙ্গার ঘাটে অন্যান্য সাধুদের সাথে শুয়েছিলাম। এইভাবেই বেশ কয়েকদিন কাটানোর পর একজন সাধু বললেন ঋষিকেশে এই জায়গাটা ফাঁকা থাকে। অনেক লোকজন হেঁটে যায়। এখানে বসে ভিক্ষা করলে আমার চলে যাবে। কদিন আর এই ভাবে চলে।
একটা বাস ধরে পৌছালাম ঋষিকেশ।
সেই থেকেই এখানে।
অবাক হলাম। বললাম -বাপি ,তোমার যন্ত্রনার জীবন নিয়ে তো একটা ইতিহাস লেখা হয়ে যাবে। অনেক স্ট্রাগল করেছ জীবনে। এখনও করছ।
--না, দাদা এখন আর স্ট্রাগল করতে হয় না। এখন বেশ ভালোই আছি। ভিক্ষা করতে করতেই পরিচয় হয় এক বিদেশি দম্পতির সাথে। তারাই আমায় এই গাড়িটি কিনে দিয়ে গেছেন। দুই -তিন বছর অন্তর তারা ভারতে এলে আমার বাড়িতেই থাকেন। জায়গা কিনে বাড়ি করেছি। বাড়ি করার সময়ও তাঁরা আমায় ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। মাঝেসাঝে আমার ব্যাঙ্ক একাউন্টে ও কিছু কিছু টাকা পাঠান।
আমার যাতে ঠিকঠাক চলে তারজন্য তারা তাঁদের এই ফটোটা দিয়ে গেছেন সঙ্গে আমি যে ইংরেজিতে কথাগুলি বলি সেটুকু শিখিয়েছেন ও লিখে দিয়েছেন।
এখন আমি এই লেখাটাই বিদেশি পর্যটকদের দেখিয়ে ভিক্ষা করি। ইংরেজিতে ঐটুকুই বলতে পারি। তার বেশি নয়।
কেউ কেউ সাহায্য করেন, কেউ চলে যান। তবে ভারতীয়রা ভিক্ষা দিলে পাঁচ, দশ টাকা দেন। কিন্তু বিদেশিরা দিলে ৫০টাকা, ১০০টাকা এমনকি ৫০০ টাকাও দেন।
তাতেই চলে। তবে দাদা আমার দুই ছেলে নিয়ে সংসার । আমার কাছেই আমার বউয়ের মা থাকেন। ওনার কেউ নেই। তাই একটু অসুবিধা হয়। বড় সংসার ।তবুও…..
দাদা অনেকক্ষন বকবক করে অনেক সময় নষ্ট করলাম আপনাদের। এখানে চা ও পাওয়া যায় না যে আপনাদের খাওয়াব।
চলুন আজ আমার বাড়িতেই থাকবেন।
- না ভাই, তা হয় না। আজ আমাদের হরিদ্বার যেতেই হবে। পরে যখন আসব তখন না হয় তোমার বাড়িতেই আসব ও থাকব।
আজ বরং উঠি।
উঠতে যাব এমন সময় একটি জিপ এসে পাহাড়ি ধুলা উড়িয়ে দাঁড়াল বাপির কাছে। ড্রাইভার গাড়ি থেকে নেমে বাপির হাতে ৫০ টাকা দিল। বাপির মুখ দেখে বুঝলাম বাপি কেমন যেন ইতস্তত বোধ করছে। তারপর লজ্জা মুখে পকেট থেকে কি যেন একটা লুকিয়ে ওই ড্রাইভারের হাতে তুলে দিল।
জিপটিও ধুলা উড়িয়ে চলে গেল।
তৃতীয় পর্ব
আমি প্রশ্ন করলাম। কি দিলে বাপি। উনি তো তোমায় ভিক্ষা দিলেন না। কিছু একটা তুমি দিলে বিনিময়ে ?
-দাদা ও কিছু নয়। আপনারা ভালো মানুষ। পরে একসময় দেখা হলে বলব।
কিরণ বলল বাপি তুমি ওটা কি দিলে আমি বুঝেছি। যাই হোক এই ব্যবসাটা ছেড়ে দাও ভাই।
- দাদা আগে এসব কিছুই করতাম না। এত মানুষ চায় যে বিরক্ত হয়ে যেতাম। আমার কাছে যা থাকতো না, দেখি মানুষ তাই খোঁজ করছে। আর আরো কত কিছুই জানতে চায়।
একসময় বেশ কয়েকদিন টানা ভিক্ষা জোটে নি।
সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছিল । দুই ছেলে ইংলিশ মিডিয়ামে পরে।
তাদের স্কুলের খরচ, টিউশন ইত্যাদির কথা ভেবে সেদিন থেকে এই মশলা বিক্রি করতে শুরু করি। পেট বড় বালাই দাদা। একদিন খেতে না পেলে কেউ জিজ্ঞাসা করে না আজ কি খেলাম, কি রান্না হলো। সমাজ, নিজের গ্রাম, নিজের পরিবার থাকতেও ভিটে ছেড়ে চলে আসতে হয়েছে। সরকারি কোন সাহায্য আজ পর্যন্ত জোটে নি। অথচ বলুন আমার মত লোকগুলোর জন্য তো সরকার কিছু ভাবতে পারতো?
এ সমাজ বড় নিষ্ঠুর দাদা।
সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যই এটুকু করতে হয়। ওরা বড় হলে ঠিক ছেড়ে দেব। আপনার কথা মনে রাখব।
জানি এটা অপরাধ। কিন্তু যাঁরা চায় তারা শিক্ষিত ভদ্রলোক। আমি তো যেচে কাউকে বেচি না। অল্প বয়স্ক কাউকেও দিই না।
তাছাড়া এখানে কয়েকজন পুলিশের লোকও জানে আমি এ কাজ করি। তারাই বলেছে সাধু সন্ত বা কেউ চাইলে একমাত্র তাকেই যেন দিই। ওপেন যেন বিক্রি না করি।
আমায় ক্ষমা করুন দাদা।
আমি বললাম ঠিক আছে বাপি। আমাদের রিকোয়েস্ট রেখ। একটু বেশি আয় হলে এই পথটা ছেড়ে দিও।
তাছাড়া পুলিশের ও ভয় তো থাকেই। বিপদে পড়বে।
বাপি হাসল।
বাইবাই করার আগে বাপিকে পঞ্চাশ টাকা দিতে গেলাম। বাপি নিতে চাইলে না।
আমি বললাম তোমায় দিচ্ছি না। এই টাকা দিয়ে তুমি তোমার ছেলেমেয়ের জন্য একটু মিষ্টি নিয়ে যেও।
টাটা। আবার দেখা হবে কোনদিন।
বেশ কয়েকবার তারপরও গেছি। বাপির দেখা পাইনি। পরবর্তী সময়ে যখনই ওই পথে হেঁটেছি সহযাত্রীদের অলক্ষেই আমার দুই চোখ খুঁজে ফিরেছে বাপিকে। খুঁজে পাইনি।
জানিনা বাপি কেমন আছে। হয়ত ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়েছে, হয়ত গাঁজা বিক্রি ছেড়েছে।
মন জানতে চেয়েছে বারেবারে কেমন আছে বাপি ও ওর পরিবার ? উত্তর পাইনি।
উত্তরের অপেক্ষায় বেশ কয়েকবার ফোন করেছি। একবারই বাপি ফোন ধরেছিল। একবারই কথা হয়েছিল।
বলেছিল ভালো আছি দাদা।
তারপর ফোনের সেই নম্বরে ফোন করলেও আর কখনো রিং হয় নি।
কোথায় গেল বাপি? কেমন আছে?
কখনো প্রশ্ন করেছে মন বাপি জীবিত আছে তো?
ছি ছি এসব কেন আসছে। কেন ? কেন আসছে।
বরং বাপি ভালো আছে। বাপি অন্য কোন ভালো কাজ করছে ভিক্ষা বৃত্তি ছেড়ে। ওর ছেলে হয়ত এবছর মাধ্যমিক দিয়েছে। হয়ত ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হয়েছে।
তবুও মন আজ ও খুঁজে ফেরে বাপিকে।
বন্ধুরা আপনারা তো অনেকেই হরিদ্বার যান। নিশ্চয় যান স্বর্গাশ্রমের ভিতর দিয়ে আম ছায়াঘন পথে রামঝুলার দিকে।
যদি দেখা হয় বাপির সাথে কারুর কখনো আপনাদের। আমায় দয়া করে বাপির খোঁজ দেবেন। কেমন আছে বাপি জানবেন।
বাপি বড় ভালো ছেলে। বাপিও আমার আত্মার আত্মীয়, বন্ধু।।
সমাপ্ত
Comments