সব তীর্থ বারবার গঙ্গাসাগর একবার
অনেক দিন থেকেই আমার বাবার ইচ্ছা গঙ্গাসাগর যাবেন। আমায় প্রায়ই উনি বলেন, আমায় একবার গঙ্গাসাগর নিয়ে চল, বড় ইচ্ছা গঙ্গা সাগর যাবার। আমি পরিকল্পনা নিয়েছি বারবার কিন্তু প্রত্যেকবারই সে পরিকল্পনা ভেসতে গেছে বিভিন্ন কারনে। ভগবানের পায়ে উৎসর্গকৃত শুকনো ফুলের মত গঙ্গায় ভেসে গেছে প্রতিবারের পরিকল্পনা , তখন আমার বাবাও বারেবারে আশাহত হইয়াছেন। তাই ভেবেছিলাম গঙ্গা সাগর যাব বাবাকে নিয়েই কিন্তু আগে থেকে পরিকল্পনা না করে । হঠাৎই বেরিয়ে পরার মধ্যেও আলাদা যে এক আনন্দ আছে সেটাই আসলে উপভোগ করতে চেয়েছি।
২০১৯ সালের , নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে, সবে হালকা শীত পড়েছে , ভাবলাম আগামী কালই যাত্রা করব গঙ্গা সাগরের উদ্দেশ্যে। অফিসে পৌঁছে ছুটির আবেদন করতেই ছুটিও মিলে গেলো । পরের দিন ভোরের কোকিল ডাকার আগেই ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে নিয়ে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়লাম বাবা মা, শ্বশুরমশাই, শ্বাশুড়ি মাকে সঙ্গে নিয়ে গঙ্গা সাগরের উদ্দেেেশ্। গাাড়ি আগেই বলে রেখেছিলাম । সকালে নির্দিষ্ট সময়ে সে গাড়ি নিয়ে হাজির ড্রাইভার দুর্জয়। ভারী মিষ্টি ছেলে দুর্জয়। মনে মনে ভাবলাম সঙ্গে যখন দুর্জয় তখন এ যাত্রা সফল হবেই, আমরা ঠিক পৌঁছে যাবো গন্তব্য "সাগর দ্বীপে"।
শৈশব থেকেই শুনেছি গঙ্গাসাগর যাত্রা নাকি খুব কষ্টের ও সময়সাপেক্ষ। তবে বর্তমানে এপথের কষ্ট আর অতীতের মত নেই। আমরা কালনা হইতে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ধরে গঙ্গাসাগরের পথে এগুচ্ছি। পথে কিছুদূর যাবার পরই বাবা বললেন -"একটু গুরুদেবের আশ্রম দক্ষিণেশ্বরের মহামিলন মঠ হয়ে গেলে ভালো হয়। একবার দর্শন হয় আশ্রম" ।
আমি প্রথমে একটু বিরক্ত হয়েছিলাম, কারন অনেকটাই পথ ঘুরতে হবে। তাছাড়া সকালে ওই পথে অফিস যাত্রীদের কারনে ভীড় হয় ভালোই। তবুও বাবার ইচ্ছাকে মর্যাদা দিতে দুর্জয়কে বললাম চলো দক্ষিনেশ্বরের পথেই। এমনিতেই আমার একটা বদনাম আছে , আমি নাকি পথে বেরুলে খুব খেঁচখেঁচ করি। তাই এ যাত্রার শুরুতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম পথে আমি একেবারে শান্ত ছেলের মত থাকব। সকলে যাই বলবেন তাই শুনব।
কিছুক্ষনের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম দক্ষিণেশ্বরে গুরুদেবের তৈরি "মহামিলন মঠে"। এই মন্দির ওঙ্কারনাথ মঠ ও মন্দিরগুলির প্রধান কার্যালয়। শ্রী শ্রী সীতারাম দাস ওঙ্কারনাথের আবির্ভাব হুগলি জেলার ডুমুরদহ গ্রামে। সারা পৃথিবীতে ওনার অসংখ্য মঠ মন্দির আছে । শুনেছি গঙ্গা সাগরেও সাগর তটে ওনার সুন্দর মঠ ও ধর্মশালা আছে। মহামিলন মঠ সেই সব মঠেরই প্রধান কার্যালয়। মঠে এসে রাধাকৃষ্ণের মন্দির দর্শন ও বেশ কিছুক্ষন ঘোরাঘুরি করে গঙ্গা সাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। মাঝে একটি চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে মায়ের তৈরি লুচি আর দোকান থেকে কেনা সন্দেশ খেয়েছিলাম। গাড়ি চলতে চলতে বাবা তাঁর স্মৃতি রোমন্থন করছেন আর আমরা শুনেছি সেসব কথা। কখনো মা ও একই কাজ করছেন। বেশ ভালো লাগছে সেসব শুনতে।
বাবা আমার আইনসম্মত মাকে বললেন "আপনার বিয়ানের সাথে আমার বিয়ের পুরো খরচা ঠাকুর দিয়েছেন। আমার বড় বোনের বিয়েতেও ঠাকুর আর্শীবাদ স্বরূপ ৫০০ টাকা দিয়েছিলেন। সে সময় ওই ৫০০ টাকার ও অনেক মূল্য। কিন্তু তার থেকেও মূল্যবান আমাদের পরিবারে সীতারামের আর্শীবাদ।"
গাড়ি নিজের গতিতে ছুটছে, আগে থেকেই দুর্জয়কে বলেছিলাম খুব দ্রুত যাবার দরকার নেই। সূর্য ডোবার আগেই কচুবেরিয়া পৌঁছালেই চলবে। ইতিমধ্যে মুকুন্দপুর পেরিয়ে গেলাম , দুর্জয় বলল আমরা বারুইপুর হয়ে যাব। বারুইপুর ওর চেনা পথ, এই বারুইপুর পিয়ারার জন্য বিখ্যাত। এদিকে ক্ষিদেও পেয়েছে। তাই একটা ধাবায় দাঁড়িয়ে কিছুক্ষন বিশ্রাম ও খাওয়া দাওয়া সেরে আবার এগিয়ে চলা। এখন পথ ভুল হবার উপায় নেই কারন সঙ্গে আছে গুগুল ম্যাপ। এদিকে পথের ধার ঘেঁষে ছোট খালটিও নিজের খেয়ালে বয়ে চলেছে গঙ্গায় সঙ্গমের উদ্দেশ্যে। কোথাও কোথাও খালের এপার থেকে ওপারে যাবার জন্য বাঁশের ও কাঠের ছোট সেতু লক্ষ্য করছি। এখানে লক্ষ্য করলাম বিঘের পর বিঘে জমি চাষযোগ্য নয় ।
মা বললেন - "আগে এই পথ গভীর জঙ্গলে ভর্তি ছিল। এসব জায়গাতেও নাকি আগে বাঘের দেখাও মিলত"।
বললেন তখন আমি মাতৃগর্ভে। হঠাৎই সীতারাম(মায়ের গুরুদেব) বললেন সকলকে নিয়ে গঙ্গাসাগর পুণ্য স্নানে যাবেন। আমার দিদিমা সারাজীবন আশ্রমিক ছিলেন, তাই উনিও সহযাত্রী। সেসময় সারা ভারতে বিভিন্ন মহিলা পরিচালিত আশ্রমের দায়িত্বভার ছিল আমার দিদাভাইয়ের মত অনেক মহাত্মার উপরে। এদিকে দিদাভাইয়ের গঙ্গা সাগর যাওয়ার কথা শুনেই মা বায়না ধরেছিলেন সকলের সাথে মা গঙ্গাসাগর যাবে। আমার মায়ের বয়স তখন সবে ১৮ বছর। এদিকে আমার ঠাকুমা রাজি ছিলেন না মাকে পাঠাতে। কারন সেকালে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের ঘরের বাইরে খুব একটা বেরুনোর অনুমতি হতো না। কুসংস্কার তখনও গ্রাম বাংলায় আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে। এদিকে সীতারামের আদেশ অমান্য করতেও পারছেন না ঠাকুমা । দিন কয়েক আগেই আশ্রম থেকে একটি চিঠি এসেছিল ঠাকুমার কাছে, শান্তি মাকে সঙ্গে নিয়ে আপনিও চলুন গঙ্গাসাগর। কোন অসুবিধা নেই। ঠাকুমা গুরুদেবের আদেশ অমান্য করেন কি করে? মা ও ঠাকুমা দুজনেই গিয়েছিলেন দিদাভাইদের সঙ্গী হয়ে গঙ্গাসাগর পুণ্যস্নানে। তখন আমি গর্ভস্থ সন্তান। মা বললেন তখন নাকি আমারও প্রথম গঙ্গা সাগর যাওয়া" ।
এই গল্প শুনে , আমি ও দুর্জয় হো হো করে হেসে উঠলাম । মাকে বললাম, তোমার মুখে এ গল্প শুনে ভালো লাগলো । বোধহয় ভ্রমনের নেশা তখন থেকেই আমার জীবনের সাথে জুড়ে গেছে।
ড্রাইভার দুর্জয় বললো, আর একঘন্টার মধ্যেই আমরা পৌঁছে যাব কাকদ্বীপ। তারপর কাকদ্বীপের কচুবেরিয়ার চার নম্বর জেটি ঘাট পেরিয়েই গঙ্গাসাগর দ্বীপে পৌঁছাব।
লঞ্চে তখন
বিকাল ৫ টা নাগাদ কাকদ্বীপ পৌঁছে স্থানীয় পঞ্চায়েতের গাড়ি পার্কিং এ গাড়ি রেখে পৌঁছে গেলাম ৪ নং জেটি ঘাটে। জেটি ঘাটে পৌঁছে দেখি মুড়িগঙ্গায় তখনও ভাটা চলছে।
সন্ধ্যা ৬ টায় ভেসেল ছাড়বে জোয়ার আসলে ।তাই জেটির টিকিট কেটে ভেসেলের অপেক্ষায় বসে থাকা আর অনলাইনে গঙ্গাসাগরের মাহাত্ম্য পড়ছি। এই গঙ্গা সাগরেই কোন এক সময় সাগরতীরে সাংখ্যদর্শনের আদি-প্রবক্তা "কপিলমুনির আশ্রম" ছিল। একদা কপিলমুনির ক্রোধাগ্নিতে সগর রাজার ষাট হাজার পুত্র ভস্মীভূত হন এবং তাদের আত্মা নরকে নিক্ষিপ্ত হয়। সগরের পৌত্র ভগীরথ স্বর্গ থেকে গঙ্গাকে নিয়ে এসে সগরপুত্রদের ভস্মাবশেষ ধুয়ে ফেলেন এবং তাদের আত্মাকে মুক্ত করে দেন (রামায়ণ, বালকাণ্ড, ৪৩ অধ্যায়)।
মহাভারতের বনপর্বে তীর্থযাত্রা অংশে গঙ্গাসাগর তীর্থের কথা বলা হয়েছে। পালবংশের রাজা দেবপালের একটি লিপিতেও তাঁর গঙ্গাসাগর-সঙ্গমে ধর্মানুষ্ঠান করার কথা লিখেছেন। লোক-কাহিনী অনুযায়ী এখানে কপিল মুনির একটি আশ্রম ছিল। একসময় সেটি সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও আশ্রমটিকে কেন্দ্র করে তার ভক্তদের সমাগম দিনদিন বাড়তে থাকে। প্রত্যেক বছর জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি মকরসংক্রান্তি বা পৌষ-সংক্রান্তির পূণ্যতীথিতে লাখো লাখো মানুষের সমাগম ঘটে এই সঙ্গমে। এই সমাগমকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিরাট মেলা যারই নাম "গঙ্গাসাগর মেলা"। সারাভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে কাতারে কাতারে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ, সাধুসন্তের আগমন হয়। গঙ্গাসাগর মেলা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিন্দু মেলা (কুম্ভমেলার পরে)। মকর সংক্রান্তির দিন এখানে সর্বোচ্চ ভীড় হয়। সেই কারণে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় এই মেলায়। কচুবেরিয়া জেটি ঘাটে এসে স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াস সেখের কাছে শুনলাম বছর কুড়ি আগে এই সাগর দ্বীপের সাথে কচুবেরিয়ার মধ্যে সেতু নির্মাণের কথা হয়েছিল। তবে পরে তা আর হয়নি। অদূর ভবিষ্যতে কোন সময় হয়ত সেতু নির্মাণ হলে সাগর দ্বীপে আসা যাওয়া অনেকটাই সহজলভ্য হবে।
কপিল মুনির আশ্রমউনি বললেন "সাগর দ্বীপের সৌন্দর্য অবর্ণনীয়। এই দ্বীপে যিনি আসেননি তাকে সাগরদ্বীপের সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করে বোঝানো কঠিন"। দ্বীপের দক্ষিণপ্রান্তে হুগলি নদী (গঙ্গা নদী) বঙ্গোপসাগরে এসে পতিত হয়েছে। এই সাগরদ্বীপ হল বঙ্গোপসাগরের মহাদেশীয় সোপানে অবস্থিত একটি দ্বীপ, দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩২ কিমি,প্রস্থে ১৪ কিমি। কলকাতা শহর থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় দিনের দিন এসেও ফিরে যান অনেক ভ্রমনার্থী।
এবার নির্দিষ্ট সময়ের কিছুক্ষন আগেই আমাদের ভেসেলটি ছাড়ল । চারিদিকে নিকষ কালো অন্ধকারের বুক চিড়ে ভোঁ-ভোঁ আওয়াজ করতে করতে ভেসেল ছুটে চলল সাগরদ্বীপের দিকে । প্রায় ১ ঘন্টা সময় লাগলো দ্বীপে পৌঁছাতে। ভেসেল ভীষন ভিড়,পা রাখার জায়গা নেই। একজন স্থানীয় বাসিন্দা পঞ্চানন ধারার সাথে পরিচয় হলো, উনি দাঁড়ানোর জন্য কিছুটা জায়গা করে দিলেন। ভীষন ভালো মানুষ। উনি গল্প করলেন সাগরদ্বীপের মানুষদের জীবনযাত্রা, রাজনৈতিক ও সামাজিক , শিক্ষা, স্বাস্থ্যের বিষয়ে। বললেন সাগরদ্বীপ পূর্ন স্বাক্ষর গ্রাম। এখানে শিক্ষিত মানুষ ভীষন সচেতন। দ্বীপে ৪২ টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। ১৩৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৪ টি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়, আছে একটি মহাবিদ্যালয় সহ পলিটেকনিক কলেজ।
সকলে সাগর স্নানে আমি তখন আনমনেকৃষিকার্য সহ প্রধান জীবিকা হলেও এখানে মানুষ পর্যটন শিল্পের উপরও নির্ভরশীল। তবে কাকদ্বীপ থেকে ব্রিজটি না হওয়ায় এখানকার মানুষের এখনও ক্ষোভ আছে। এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপে মানুষ ভীষন শান্তিপ্রিয়। যাক, এসব গল্প করতে করতে হঠাতই একটা ধাক্কা। হুড়মুড়িয়ে পড়লাম অন্য একজন যাত্রীর গায়ে। মনে হলো যেন গঙ্গায় নিমজ্জিত কোন সুউচ্চ পাহাড়ে ধাক্কা মারল আমাদের ভেসেল।একটু ভয় পেয়েই জানতে চাইলাম কি হলো দাদা?
পঞ্চানন বাবু বললেন কিছু নয়, আমরা পৌঁছে গেছি । আসলে জেটিতে প্রবল গতিতে ধাক্কা লাগলে এমন আওয়াজ হয়। এদিকে ক্লান্ত শরীর। বাবা, মা আরো ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তাই বাসের অপেক্ষায় না থেকে অটো ভাড়া করে সোজা গঙ্গাসাগরের সমুদ্রতীরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম।
কচুবেরিয়া থেকে কপিল মুনির আশ্রম প্রায় ৩২ কিমি। তবে পথ প্রশস্থ ও সুন্দর। আজ এখানেই রাত্রিবাস করব "ভারত সেবাশ্রমে"। মনোরম পরিবেশে একেবারে কপিল মুনির মন্দিরের কাছেই "ভারত সেবাশ্রম" । তখন রাত্রি ৯ টা বাজে, হালকা শীতের মেজাজ, সামুদ্রিক দূষণমুক্ত হাওয়া। অটোতে আসার সময়ই শীত করছিল বেশ। কিছুক্ষন এদিক ওদিক ঘুরে পাশের একটি হোটেলে হালকা খাওয়া দাওয়া সেরে কখন যে নিদ্রামগ্ন হলাম জানি না।
ক্লান্ত শরীর ভোরে গভীর ঘুম ভেঙে গেল বাবা এবং মা এর চিৎকারে। রাতেই বলেছিলাম তোমরা ভোরে উঠলে উঠো, কিন্তু আমায় ঘুম থেকে উঠিও না। কিন্তু সে আর কে শোনে? ওনাদের চিৎকারে ঘুম ভাঙলেও লেপ ছাড়লাম না। বিছানায় কিছুক্ষন আড় ভেঙে একটু বেলা হতে সকাল ৭ টা নাগাদ আমি পৌঁছালাম সমুদ্র স্নানে। দেখি ওনারা সমুদ্রের ধারে অপেক্ষায় আছেন আমার জন্য। স্নান সেরে ফিরে এলাম কপিল মুনির মন্দিরে। মা পূজা দিলেন। দেখলাম এখানে পাণ্ডাদের বা স্থানীয় দোকানিদের উৎপাত ও জুলুমবাজি একদমই নেই। বেশ শান্তিতে ফাঁকায় ফাঁকায় পূজা দিয়ে একে একে আশেপাশের আরো কয়েকটি মন্দিরে গেলাম। যদিও গঙ্গাসাগর মেলায় এলে এত ফাঁকায় ফাঁকায় পূজা দেওয়া কখনোই সম্ভব হতো না । এদিকে ক্ষিদেও পেয়েছে সকলের। মন্দির থেকে কিছুটা এগিয়ে এসে একটা দোকানে চা বিস্কুট খেয়ে হাঁটতে হাঁটতেই পৌঁছালাম সীতারাম দাস ওঙ্কারনাথের মন্দিরে ও পরে কপিলানন্দ মহারাজের বড় মন্দিরে। এই মন্দিরগুলো ও এই দ্বীপের আকর্ষণ।
মন্দিরে সাধুবাবার দর্শন
শৈশবে একটা কথা শুনতাম -
"সব তীর্থ বারবার
গঙ্গাসাগর একবার"।
তবুও বলি আজকে এ পথ ততটা জটিলতা আর নেই। আছে বাস ও ট্রেনের ভালো যোগাযোগও। এ পথে আপনিও যেতে পারেন, গেলে নিশ্চয় আপনারও ভালো লাগবে।
কিভাবে যাবেন :-শিয়ালদহ থেকে কাকদ্বীপ বা নামখানা লোকাল ধরে কাকদ্বীপ বা নামখানায় নেমে কচুবেরিয়া বা নলবন আসুন। এখান থেকে বাসে ১ ঘন্টার পথ। ধর্মতলা বা বাবুঘাট থেকে বাস আছে।
থাকবেন কোথায়- ভারত সেবাশ্রম, রামকৃষ্ণ মিশন সহ অনেকগুলি ধর্মশালা আছে।
আনুমানিক খরচ :- জনপ্রতি ১০০০ টাকার মধ্যে।
Comments