লক্ষী ভান্ডার

গতকাল একটি বাড়ির সামনে দিয়ে যাবার সময় কানে এলো তুমুল ঝগড়ার আওয়াজ। আমি থমকে দাঁড়ালাম। এই বাড়িটিতে অতীতে কোনদিন এমন ঝগড়া ঝাঁটি হয়েছে আমি শুনিনি। বাড়ির লোকজন সব আমার পরিচিত। বেশ ভদ্র সভ্য পরিবার। 

বাড়িটির গৃহ কর্তা ভালো ব্যবসাদার। সমাজে নাম ডাক আছে। এক কথায় প্রায় সকলেই ওনাকে চেনেন। 

আমি ঝগড়াঝাঁটি থামানোর জন্য মনস্থির করলাম বাড়িটিতে ঢুকি। দরজায় কড়া নাড়তেই গৃহ কর্তা ছুটে এসে দরজা খুললেন। 
আমি প্রবেশ করলাম বাড়িটির অন্দরমহলে।

ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে ওনাদের দুজনকেই শান্ত হতে অনুরোধ করলাম। বৌদিকে বললাম- এক গ্লাস জল দিন বৌদি।  এরপর বউদি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে  জল আনতে রান্না ঘরে ঢুকলেন। 

এরপর আমি গৃহকর্তার দিকে নজর দিতেই দেখি ওনার সারা গা ঘামে ভিজে গেছে। লুঙ্গীটি ভুঁড়ি থেকে এতটাই নেমে গেছে যে আর একটু হলেই খুলে যাবে। এক হাতে লুঙ্গির গিঁট ধরে উনি দাঁড়িয়ে। 
----------------------------          -----------------------
বৌদি আমায়  জল দিতেই এক চুমক জলে  খেয়েই আমি প্রশ্ন করলাম কি হয়েছে বৌদি? আপনাদের পরিবার ভদ্র সভ্য। এ পাড়ায়  সকলেই আপনাদের চেনেন । এমন চেঁচামেচি করছেন বাইরের লোকজন তো সব শুনতে পাচ্ছে। এটা ঠিক নয় আপনি শান্ত হন। 

আমার কথা শুনে বৌদি তো কেঁদেই ফেললেন। তারপর যা বললেন তা শুনে আমি তো তাজ্জব বনে গেলাম।

বৌদি-- দেখুন আপনার দাদা ব্যবসা করেন। সব ঠিক আছে। ওর নিজের IT ফাইল আছে। কিন্তু এতদিন পর জানতে পারছি ও আমার নামেও একটা IT ফাইল করে রেখেছে। আমার নামেও নাকি ব্যবসা আছে।

----আমি বললাম তাতে হয়েছে টা কী? এ তো ভালোই। 

তখন বৌদি ওনার মনের ব্যথার কথা খুলে বললেন। বললেন, গতকাল উনি দুয়ারে ..... গিয়েছিলেন লক্ষী ভান্ডারের ফর্ম জমা দিতে। কিন্তু অফিসাররা বললেন IT ফাইল থাকলে লক্ষী ভান্ডারের 500 টাকা অনুদান পাওয়া যাবে না।

এখন বলুন, ওর জন্য আমি তো 500 টাকা পাব না। ওই টাকাটা পেলে আমার প্রতি মাসের ফোনের বিল , বিউটি পার্লারে যাবার জন্য তো কারুর (ওর কাছে) কাছে হাত পাততে হতো না আর।

এখন আমি  বঞ্চিত-লক্ষী। 

এই নিয়েই দু এক কথা বলতে বলতে আপনার দাদা উত্তেজিত হয়ে গেল। আর আমি তখন আটা মাখছিলাম। আমিও রেগে গিয়ে আটাটা ওর মুখে ছুঁড়ে মারলাম। তাতেই ও রেগে গিয়ে আমার বাপের বাড়ির নামে আবোল তাবল কথা শুরু করল।

সব লক্ষী দুয়ারে ছুটে হয়ত 500টাকা মাসে উপঢৌকন পাবে, কেবল আমাদের মত কিছু লক্ষীরাই বঞ্চিত রবে।
এটাই আমার রাগের কারণ।

যাদের সত্যি প্রয়োজন তারা পেলে আমি দুক্কু পেতাম না ঠাকুরপো।  যাদের প্রয়োজন নেই, তারাও পাবে শুধু IT ফাইল থাকলে তার হবে না। 

এককথায় কোন কাজ না করেই মাসে 500 টাকা  আয়। ভাবতে পারেন?

এই দুক্কুটাই আমি সামলাতে পারছি না।

(কাল্পনিক)

#প্রাণকৃষ্ণ

Comments

Popular posts from this blog

বর্ধমান জেলার অনেক মানুষের সাথে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ছিল নিবিড় যোগাযোগ

সাগরপাড়ের রানী ভাইজ্যাক

ডোডোর কেরামতি