স্বর্গদ্বারের কান্না

স্বর্গদ্বারের কান্না
-প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র


শৈশব থেকে শুরু করে আজ অবধি উড়িষ্যার এই সমুদ্র তটের  পুরী শহরে অনেকবারই এসেছি। ভ্রমণের ইচ্ছা চিন্তার জগতে ছাপ ফেললেই সব বাঙালিরই মানস নয়নে  যে দুটি স্থানের ছবি ফুটে ওঠে , তা হলো পুরী ও দার্জিলিং। ভ্রমণ পিপাসু বাঙালি মাত্রেই কখনো না কখনো কোন না কোন সময়ে এই দুটি স্থানে একবার ও অন্তত এসেছেনই। আমিও এ জীবনে এখনো পর্যন্ত নয় নয় করে ছয়-সাত বার পুরী এলাম। তবে এবারের পুরী ভ্রমণ আমার একদমই আনন্দদায়ক হয়নি বরং বলতেই হয়, বেশ দুঃখ নিয়েই আমায় ফিরতে হলো এবার ।  পুরীতে এসে টের পেলাম স্বর্গদ্বারের এক করুন বিদারক কান্না। এ কান্না ছিল শ্রমিকের, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার ও ভিক্ষুকদের। আমি ভারাক্রান্ত হলাম তাঁদের কান্নার ধ্বনি শুনে।


          পুরী বাস স্ট্যান্ড, এখানেই রথযাত্রা হয়। 


কোভিড ভাইরাসের আতঙ্ক আর ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির কারণে গত বছর থেকেই সমগ্র দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করেছে আমাদের দেশের সরকার। এই লকডাউনের কারণে দেশের সর্বস্তরের মানুষ যে বিপদে পড়েছেন তা সকলেই বুঝছি। অর্থনৈতিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়েছে সর্বস্তরের প্রতিটি মানুষেরই। তবে একদম নিম্নবিত্ত খেটে খাওয়া মানুষের ক্ষতি সর্বাপেক্ষা বেশিই হয়েছে। হাড়- কঙ্কাল বেরিয়ে গেছে খেটে খাওয়া মানুষের। তারা উদ্ভ্রান্ত। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলো কিছু চাল, গম দেওয়া ছাড়া তাঁদের জন্য আর কিছুই ভাবেনি। এ শুধু উড়িষ্যা বা বাংলার কথা নয় সারাদেশেই প্রায় সব রাজ্যের একই পরিস্থিতি ।

ব্যক্তিগত কাজেই গত ১ লা আগস্ট,২০২১ আমায় ভুবনেশ্বর যেতে হয়েছিল। এযাত্রায় আমার সঙ্গী ছিলেন শুভঙ্কর। ওই দিনই তাড়াতাড়ি আমার কাজ মিটে যাওয়ায় শুভঙ্কর বললে ওকে একটু পুরী ঘুরিয়ে দেবার জন্য। হাতে সময় আছে। তাছাড়া আমার কর্মস্থলে ৩ তারিখ, আগস্ট পর্যন্ত ছুটি নেওয়া আছে। তাই ওর আবেদনে সাড়া দিয়ে ভুবনেশ্বর বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছালাম দুপুর ৩ টে নাগাদ। পুরী গামী একটি বাসে দুজনের বসার জায়গা সংগ্রহ করলাম জনপ্রতি ৮০ টাকা ভাড়ায়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার পথ। তাই বিলাসবহুল যান  না  খুঁজে খুব সাধারণ  বাসেই যাত্রা শুরু করলাম। বৈকাল ৫ টা নাগাদ আমরা পৌঁছাই পুরী বাসস্ট্যান্ডে। আর তারপরই প্রত্যক্ষ করলাম একটার পর একটা করুন বিদারক ঘটনার। 



পুরীর চিরাচরিত অন্যান্য সময়ের ঘটনার মত একসাথে একাধিক অটো ড্রাইভার আমাদের ছেঁকে ধরলেন। কেউ বলেন স্বর্গদ্বার পৌঁছে দেবেন একশ কুড়ি টাকায়।অন্য জন বললেন ওই পথ পৌঁছে দেবেন একশ টাকায়। একটু সাইডে অন্য একজন অটো ড্রাইভার ডেকে নিয়ে গিয়ে বললেন ষাট টাকায় তিনি পৌঁছে দেবেন। সচরাচর  আমার জানা লকডাউন না থাকলে এই পথ পৌঁছে দিতে কম সে কম অটো ড্রাইভারকে দুশো টাকা আমাদের দিতে হতো। সে যাই  হোক এরপর আমরা দুজনে অটো ড্রাইভারের সাথে গল্প করতে করতে স্বর্গদ্বারে  যখন উপস্থিত হলাম তখন প্রায় সন্ধ্যা নেমেছে। 

 স্বর্গ দ্বারে  মহাপ্রভু


অটো থেকে নেমেই চোখ পড়ল স্বর্গদ্বারের শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর স্ট্যাচুটির পানে। আধো অন্ধকারে স্টাচুটি দেখে  যেন মনে হলো - মহাপ্রভু কাঁদছেন। 
প্রতি বছর তো লক্ষ লক্ষ বাঙালি তারই টানে নীলাচলে আসেন। তিনিই তো জগন্নাথে বিলীন হয়েছিলেন এমন আশ্চর্য ভাবনা মানুষের মনে আজও গেঁথে। যদিও এবিষয়ে দ্বিমত আছে। অনেকেই মনে করেন পুরীর পান্ডারাই মহাপ্রভুকে এখানে খুন করেছেন। তবে এখানে উপস্থিত হবার পরই আমার যেন কেমন মনে হলো নীলাচলে বাঙালি পর্যটকের বিগত দুবছর না আসা মেনে নিতে পারছেন না  আমার "মহাপ্রভু"। ঠিক এই কথাটিই যেন  শুনলাম পরের দিন আমাদের সমুদ্র স্নানে আসার সময় ধীরেনের (মেসেজ ম্যান)মুখে  । ওরা কেউ ভালো নেই। ভালো নেই নুলিয়া থেকে শুরু করে সমুদ্রের ধারের ছোট শাঁখের দোকানের মালিকরা কেউই। ফুচকাওয়ালা, ডাব বিক্রেতা, মাছ ব্যবসায়ী, টোটো ও অটো ড্রাইভার, ছোট বড় দোকানদার কেউ আজ ভালো নেই এই পুরীতে। 
একটাই কারণ লকডাউন ও সেই কারণে বাঙালি পর্যটকের পুরীতে না যাওয়া। 

বিচ সংলগ্ন ছোট ছোট দোকানদার বলছেন দোকান আর খুলে কি হবে। খরিদ্দার নেই। দোকান খুললেই বিদ্যুতের বিল দিতে হবে। রোজকার একটা খরচ আছে। বিক্রি না হলে সে খরচ মেটাবো কি ভাবে?
কথায় কথায় একজন বললেন দাদা, সরকার কিছু করছে না। কিছু চাল, ডাল দেয় রেশনে ঠিকই । তবে তা দিয়েই কি সংসার চলে বলুন। এবছরের থেকে গত বছর আরো খারাপ অবস্থা গেছে। এবছর তো কিছু লোকজন টিকা পেয়ে আসছে। গত বছর তো কেউই এমুখো হয়নি। 
আপনাদের ওদিকে চাষবাস ভালো হয়, কিছু কলকারখানা আছে তবুও । আমরা পুরীর লোকজনকে পুরোপুরি টুরিষ্টের উপর ভরসা করেই চলতে হয়। পুরীর ৮০ শতাংশ অর্থনৈতিক লেনদেন মন্দির ও টুরিষ্টের উপরই ভরসা করেই গড়ে উঠেছিল। আজ সব ফাঁকা। এখানে কোন কারখানা নেই, কোন চাষ আবাদ নেই। 

বিচ থেকে ফেরার সময় ওনারাই বললেন  সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে যে কোন হোটেলে খাওয়া দাওয়া করে ফিরবেন। নয়ত খাবার পাবেন না। নাইট কারফিউ শুরু হয়ে যাবে। রাত্রে বাইরে একদম বেরুবেন না। 

ঘড়ির দিকে তাকালাম। তখনই সন্ধ্যা সাতটা বেজে গিয়েছে। বিচ থেকে উঠে স্বর্গদ্বারের ভারত সেবাশ্রমের পাশ দিয়ে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ল একটি হোটেল অর্ধেকটা ঝাঁপ বন্ধ করে ভিতরে খাবারের ব্যবস্থা করেছে। সেখান থেকেই একটু জিরে রাইস আর মাছের কারী নিয়ে পৌঁছালাম আমাদের রাত্রের আস্তানা হোটেল রজনীগন্ধায়। 
হোটেল ম্যানেজারের চোখে তখন চিন্তার ছাপ। প্রশ্ন করলেন "দাদা খাবার খেয়েছেন তো?"
-বললাম হাঁ। 
উনি বললেন চিন্তা করছিলাম আপনাদের জন্যই। হোটেল একেবারে ফাঁকা। আপনারা ছাড়া আর একটি ঘরে কয়েকজন আছে। তারা অনেকক্ষণ আগেই হোটেলে ফিরেছেন। আপনারা বাইরে ছিলেন। যাই হোক আর যেন বাইরে বেরুবেন না।
আমি তাঁকে আর বাইরে যাব না বলে আশ্বস্ত করলাম।
ঘরে বসে ভাবছি এলাম একটু শান্তির অন্বেষনে। কিন্ত কোথায় শান্তি? খোদ স্বর্গ দ্বারেও অশান্তির ছায়া। তবে হ্যাঁ - স্বর্গদ্বারে মহা শ্মশানে দেখলাম বেশ তো শান্তি বিরাজ করছে। অনেকের ক্রন্দন ধ্বনির মধ্যেও দু তিনটি চিতায় যাঁরা দগ্ধ হচ্ছেন তাঁদের দেখে কেবল মনে হলো বেশ শান্তিতেই এ পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলেছেন তারা। 
শ্মশানেই তো শান্তি বিরাজ করে। 
চিতার দিকে তাকিয়ে আছি । 

                    এই  সেই মহা শ্মশান



এখানেই মনে পড়ল আমার প্রিয় সেই গানটির কলিগুলি-

ঐ মহাসিন্ধুর ওপার থেকে কি সঙ্গীত ভেসে আসে

ঐ মহাসিন্ধুর ওপার থেকে কি সঙ্গীত ভেসে আসে

কে ডাকে কাতর প্রাণে, মধুর তানে

আয় চলে আয়।

ওরে আয় চলে আয় 

আমার পাশে

মহা সিন্ধুর ওপার থেকে

কি সঙ্গীত ভেসে আসে।


বলে আয়রে ছুটে, আয়রে ত্বরা

হেথা নাইকো মৃত্যু, নাইকো জরা...

বলে আয়রে ছুটে, আয়রে ত্বরা

হেথা নাইকো মৃত্যু, নাইকো জরা...

হেথা বাতাস গীতি-গন্ধভরা

চির- স্নিগ্ধ মধুমাসে

হেথা চির-শ্যামল বসুন্ধরা

চির- জ্যোৎস্না নীল আকাশে

মহা সিন্ধুর ওপার থেকে

কি সঙ্গীত ভেসে আসে।


কেন ভুতের বোঝা বহিস পিছে

ভুতের বেগার খেটে মরিস মিছে

দেখ ঐ সুধাসিন্ধু উথলিছে

পূর্ণ ইন্দু পরকাশে

ভুতের বোঝা ফেলে

ঘরের ছেলে আয় চলে আয় আমার পাশে

ঐ মহা সিন্ধুর ওপার থেকে

কি সঙ্গীত ভেসে আসে।


কেন কারা গৃহে আছিস বন্ধ

ওরে, ওরে মূঢ়, ওরে অন্ধ

কেন কারা গৃহে আছিস বন্ধ

ওরে, ওরে মূঢ়-ওরে অন্ধ

ভবে সেই সে পরমানন্দ, যে আমারে ভালবাসে

কেন ঘরের ছেলে পরের কাছে পড়ে আছিস পরবাসে

মহাসিন্ধুর ওপার থেকে

কি সঙ্গীত ভেসে আসে। ...

ঐ মহাসিন্ধুর ওপার থেকে ।



পরের দিন ভোর ভোর ঘুম থেকে উঠে শ্মশানের সিঁড়ি দিয়ে নামছি তখনও দেখছি চিতা জ্বলছে। একটার পরে আর একজনের  লাইন। কোন অশান্তি নেই এখানে।কে কত আগে জ্বলে যেতে পারে এ যেন তারই প্রতিযোগিতা চলছে। কী আছে এই জীবনে? যত দিন বেঁচে থাকা ততদিনই তো বেঁচে থাকার লড়াই। সৎ পথে অথবা অসৎ পথে এ লড়াইয়ে আমরা অবতীর্ন । কখনো কেউ জিতছি তো অন্য কেউ হারছি। কেউ হাসছি তো কেউ কাঁদছি। 

                মাছ ধরে ফিরেছে ওরা


মেঘলা আকাশ। সূর্যদয় দেখার সৌভাগ্য হলোনা। তবে ফেরার পথে মাঝিদের কাছে কিছু মাছ কিনলাম। ওদের এখনো খুব খারাপ অবস্থা । অন্য সময় মাছ নিয়ে নৌকায় করে ফিরলেই সেই মাছ কিনে নেবার জন্য বিত্তশালীদের প্রতিযোগিতা চলতো । এখন তো লোকজন কম, তাই সেই প্রতিযোগিতাও নেই।  সস্তায় যাঁরাই চাইছেন তাঁদেরই দিয়ে দিচ্ছেন সেই মাছ। আসলে সমুদ্রের অকৃপণ দানকে কত তাড়াতাড়ি চাহিদামত মানুষের মধ্যে বন্টন করাই ওদের লক্ষ্য। এখন ওরাও আর যেন ব্যবসায়ী নয়। আমরা প্রায় কেজি খানেক বাঁশপাতা, ভেটকি মাছ কিনলাম। যদিও ভাবনা হচ্ছে কে ভেজে দেবে এত মাছ?
মাছ নিয়ে ফিরছি দেখে একজন চপ বিক্রেতা ভাই বললেন -বাবু মাছ ভেজে দেব? 
আমায় তেল কিনে দিন আর পঞ্চাশ টাকা দেবেন। আমি বাড়ি থেকে গিন্নিকে দিয়ে ভাজিয়ে দেব। ওর ও প্রয়োজন দুটো পয়সার। 
আমি রাজি হয়ে গেলাম। প্রায় ঘন্টাখানেক পরে মাছ ভাজা নিয়ে ছেলেটি ফিরল।
আজকের ইচ্ছা দুপুরে আর ভাত খাব না। মাছ ভাজা খেয়েই কাটিয়ে দেব। রাতে ট্রেনে উঠে না হয় দুটো ভাত খেয়ে নেব।
একদিন ভাত না খেলে মহাভারত কিছু অশুদ্ধ হয়ে যাবে না। গতকাল ও তো  সারাদিন পেটে এক দানাও ভাত জোটে নি। কই ক্ষতি তো কিছুই হয়নি।

দুপুর ১২ টায় মহাশ্মশান পেরিয়ে দেখলাম পথঘাট শুনশান। তবে আমাদের মত কিছু পাগলকে দেখলাম সমুদ্র স্নানে ব্যস্ত থাকতে। আমরাও নেমে পড়লাম জলে। একজন ক্যামেরাম্যান ছবি তুলব কিনা জানতে চাইলে বললাম আজ আর ছবি তোলার ইচ্ছা নেই। 
একথা শুনে তিনি নাছোড়বান্দা। অনুনয় বিনয় করতে লাগলেন। আমি জানতে চাইলাম ছবি কখন দেবেন?
বললেন রাত্রি ১০ টার মধ্যেই ডেলিভারি করবেন। 
আমার ফেরার ট্রেন রাত্রি ৮.১০ এ। হোটেল ছাড়ব সন্ধ্যা ৬ টায় শুনে তিনি বললেন "স্যার ওই সময়ের মধ্যে ডেলিভারি সম্ভব নয়। দোকান তো বন্ধ "
ব্যর্থ মনোরথে ফিরে গেলেন উনি। ওনার ও চোখে মুখে একটা কষ্টের ছাপ লক্ষ্য করলাম। 
এরপর কিছুক্ষন  স্নান করার পরই শুভঙ্কর এলেন। উনি গা - হাত মেসেজ করেন। সমুদ্রের ধারেই ওনার একটি শাঁখা-পলার দোকান আছে। তবে। লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন বিক্রি বাটা নেই। দুচার জন পর্যটক যাঁরা আসছেন ,তাঁদেরই গা-হাত মেসেজ করে কোন রকমে এখন সংসার চালাচ্ছেন। আসলে শুভঙ্কর একজন মাইগ্রেন্ট শ্রমিক। ওর চোখে মুখে দারিদ্রের পরিষ্কার ছাপ পড়েছে। মুখের বলিরেখা স্পষ্ট। 
পরিষ্কার বাংলায় বললেন "বাবু মেসেজ করবেন?"
কত টাকা নেবেন জানতে চাওয়ায় বললেন দুজনের ১৫০ টাকা দিলেই চলবে। ওর চোখ মুখ দেখে আমি দরাদরি না করে মেসেজ করাতে রাজি হলাম। একজন মানুষকে দিয়ে নিজের শরীর টেপানো অন্যায়ের। তবুও মনে হলো ওর দুটি পয়সা দরকার। 
মেসেজ করা শুরু করেছে। কিছুক্ষনের মধ্যেই দেখি একজন মিষ্টি বিক্রেতা হাজির। মিষ্টি খেতে আমার আবার খুব ভালো লাগে। তবে ইদানিং খুব একটা মিষ্টি খাইনা। তবুও ইচ্ছা হলো।
শুভঙ্করকে বললাম মিষ্টি খাবে ভাই?
-ও খাব না বলল। 
তবে ওর মুখ দেখে মনে হলো অনেকক্ষণ  কিছু খায় নি। 
মিষ্টি বিক্রেতা হকার ভাইকে বললাম সকলকেই মিষ্টি দাও।
-সকলেই মিষ্টি খেলাম।

                    শুনশান সৈকত


এদিকে তখন প্রায় বেলা দু -টো বেজেছে। সূর্যের প্রখর তাপে পিঠ পুড়ছে। মনস্থির করলাম এবার হোটেলেই ফিরতেই হবে। তারপর কিছুক্ষন ঘুমিয়ে নিয়ে সন্ধ্যায় ট্রেন ধরতে হবে। 
স্নান সেরে স্বর্গদ্বার দিয়ে ফেরার সময় ভাবছি এক ঢিলে দুই পাখি মারতে পুরী তো এলাম। কিন্তু এবার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলাম। 
তবে একবুক যন্ত্রণার নুড়ি পাথর সংগ্রহের ঝুলিতে ভর্তি করে ফিরছি। 
লকডাউন অনেক কিছুই শিক্ষা দিল। শুনেছি মন্দের মধ্যেও নাকি কিছু ভালো শিক্ষার্জন হয়। 
সেই শিক্ষাই তো পেলাম। 
স্টেশনে পথে আসার সময় আবার চোখ গেল সেই মহাশ্মশানের দিকে। 
তখনও দেখি বেশ কয়েকটি মৃত দেহ দাহ হচ্ছে। আর পরিজনেরা কাঁদছে। 

                             -সমাপ্ত-









Comments

Popular posts from this blog

বর্ধমান জেলার অনেক মানুষের সাথে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ছিল নিবিড় যোগাযোগ

সাগরপাড়ের রানী ভাইজ্যাক

ডোডোর কেরামতি